খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ই জুন ২০২৬, ৩:১০ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের উদ্যোগে বই প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কুষ্টিয়া জেলা জিয়া স্মৃতি পাঠাগার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল ৪ টার দিকে কুষ্টিয়া দিশা টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
তিনি তার বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) রাষ্ট্রনায় কোচিত নেতৃত্ব, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাঁর অবদান এবং জাতীয় উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার পাশাপাশি বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। প্রধান আলোচক ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। এতে সভাপতিত্ব করেন জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি খোন্দকার আব্দুল মজিদ ও সঞ্চালনায় করেন সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ পাঠক এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন লেখকের লেখা, জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে রচিত বই প্রদর্শন করা হয়। এসময় কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) আদর্শ ও কর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পাঠাভ্যাস ভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, সততার দিক দিয়েও জিয়াউর রহমান এ যাবৎ, যত মনিষী জন্ম নিক না কেনো ক্ষমতার বলয়ের মধ্যে থেকেও যে সৎ থাকা যায় উনি সেটা প্রমান করেছেন।
আমরা আসেন সকলে চর্চা ও চেষ্টা করি, তার আদর্শ অন্তত ধারন করি। প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর ডাকে। সেদিন এদেশে অনেক রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি ছিলো। কিন্তু কেউই সেদিন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে সাহস করেনি। তিনি সে সময় সৈনিক ছিলেন। উনার কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিলো না। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের রাজনৈতিক বিষয়, সাধারণত সেনাবাহিনীর লোকজন, কর্মকর্তারা রাজনৈতিক থেকে বিরত থাকেন। উনাদের দায়িত্ব থাকে দেশ রক্ষা, স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা।
কিন্তু উনি বিবেকের তাড়নায় দেশের জন্য, মানুষের জন্য উনি সামনে এগিয়ে এসে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই উনি খান্ত হননি, উনি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। একটি দেশকে স্বাধীন সার্বভৌম সম্মৃদ্ধ করতে যা করনীয়, ৭৫এর পট পরিবর্তনের পরে ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দুতে অবস্থান করেছিলেন। আমাদের দেশ মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের যে ঘাটতি হয়েছিলো, উনি বাংলাদেশকে সারা বিশ্বে নতুন করে পরিচিত করছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ যাতে ভালো থাকে সে লক্ষ্যে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে গেছেন।
বর্তমানে তার সুযোগ্য পুত্র দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতার আদর্শ বুকে ধারন করে দেশের উন্নয়ন মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করে চলেছেন। এছাড়া অন্য বক্তারা জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্র পরিচালনা, স্বাধীনতা যুদ্ধের ভূমিকা এবং দেশের উন্নয়নে অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নে জিয়াউর রহমানের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর আদর্শ ও কর্ম তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তারা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য