কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১০ই আগস্ট ২০২৬, ১:৩৯ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে গড়াই নদীর ওপর কোটি কোটি টাকা খরচে নির্মিত হয়েছিল হরিপুর সেতু। তবে সেই সেতুটিই এখন কুষ্টিয়া ও হরিপুরের প্রায় লাখো বাসিন্দার জন্য এক আতঙ্কের নাম। দীর্ঘদিন ধরে সেতুর লাইটগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে থাকায় রাত নামতেই পথচারী ও চালকদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। বাড়ছে ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রায় ৮৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০৪ দশমিক ৫৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের সময় সেতুতে ৩৬টি সোলার ও সাধারণ লাইট স্থাপন করা হয়েছিল। তবে নির্মাণের কিছুদিন যেতে না যেতেই অধিকাংশ লাইট অকেজো হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও বাতিগুলো আর মেরামত করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর পর্যাপ্ত আলো না থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন স্পষ্ট দেখা যায় না।
ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া আঁধারের সুযোগ নিয়ে সেতুটিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপরাধী ও ছিনতাইকারী চক্র। সেতু দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী অলিউর রহমান বলেন, দিনের বেলা কোনোমতে পার হওয়া গেলেও সন্ধ্যার পর সেতুটি যেন এক আতঙ্কের নাম। অন্ধকারের কারণে কখন যে পেছন থেকে এসে ছিনতাইকারী চেপে ধরে, সেই ভয়ে থাকতে হয়।
স্থানীয় অপর বাসিন্দা শাওন বলেন, সেতু পার হওয়ার সময় উল্টো দিক থেকে আসা গাড়ির আলো চোখে এসে পড়ে, কিন্তু সেতুতে কোনো আলো না থাকায় রাস্তা বোঝা যায় না। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
কুষ্টিয়া পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, সেতুটি মূলত জেলা পরিষদের অধীনে। তবে জেলা পরিষদ থেকে পৌরসভাকে অবহিত করা হলে বা অনুরোধ জানানো হলে তা ঠিক করে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অন্যদিকে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, সেতুর আলোকস্বল্পতা দূর করতে ইতোমধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেতুটিতে নতুন করে আধুনিক লাইট স্থাপনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ে নতুন লাইট স্থাপনের কাজ শুরু করা হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য