কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আবুল বারকাত, এখনই মিলছে না মুক্তি

ঢাকা অফিস ॥ জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতকে। এর ফলে কারামুক্তি আটকে যাওয়ায় এখনই মুক্তি মিলছে না তার। গতকাল রবিবার (১৪ জুন) ডিবি পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠান। আবুল বারকাতকে কী অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বিস্তারিত আবেদনে তুলে ধরেছেন তদন্ত কর্তা। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মাজহারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত বছরের ১০ জুলাই রাতে ধানমণ্ডির ৩ নম্বর সড়কের বাসা থেকে অধ্যাপক আবুল বারকাতকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের মামলায় পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ৭ জুন দুদকের মামলায় আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান আবুল বারকাত। নিজের পাসপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার শর্তে তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ। জামিন পেলেও কারাগার থেকে মুক্তি পাননি তিনি।

ওই দিন আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আমজাদ হোসেন তালুকদার। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখে রবিবার। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আবুল বারকাতের পক্ষে তার আইনজীবী শাহীনুর ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার না দেখাতে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। আবুল বারকাতের আরেক আইনজীবী বাবুল মিয়া বলেন, ‘কারামুক্ত হতে আবুল বারকাতকে এ মামলায় জামিন পেতে হবে। আমরা তার জামিন আবেদন করেছি। সোমবার জামিন শুনানি হবে।’

গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন প্রতিহত করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আলহাজ আব্দুর রউফ, ড. আবুল বারকাতসহ অন্য আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে উসকানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশনা, অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উপাদানাবলি দিয়ে শিক্ষার্থী ও ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, আওয়ামী লীগ সমর্থকসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ প্রদান করেন।  তারা বলে, ‘আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র সরাসরি গুলি করাসহ মারধর করে হত্যা করার মাধ্যমে আন্দোলন দমন করতে হবে।’

এ নিদের্শনার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ আওয়ামী সমর্থকরাসহ আব্দুর রউফ, আবুল বারকাত ও অন্য আসামিরা যেকোনো উপায় অবলম্বন করে আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যার ফলশ্রুতিতে আব্দুর রউফ ও আবুল বারকাত কর্তৃক নির্দেশিত ও সার্বিক সহায়তাপ্রাপ্ত মামলার ঘটনার এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে নিউ মার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত মোড়ের পশ্চিম পাশে নিউ মার্কেট ১ নং গেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অংশগ্রহণে হত্যার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকারীদের ওপর দেশি ও বিদেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গুলিবর্ষণ করে ত্রাস সৃৃষ্টি করে। এর ফলশ্রুতিতে অনেক ছাত্র-জনতা নিহত হয়। আব্দুর রউফ ও আবুল বারকাতের সহায়তা ও নির্দেশনায় অন্যরা আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রমের ফলে কয়েকজন আহত ও চিরতরে পঙ্গু হন।

আব্দুল ওয়াদুদ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাসায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। ড. আবুল বারকাত ঘটনার দিন সময় অনুমান সকাল ১১ থেকে দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ সমর্থক নেতৃবৃন্দকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন বলে তদন্তকালে জানা যায়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউ মার্কেটের নীলক্ষেত এলাকায় আন্দোলন চলাকালে গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ নিহত হন। এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদের শ্যালক আব্দুর রব নিউ মার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর