কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

শিক্ষাজীবন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ সময়: রেজা আহমেদ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনা আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছিল কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস। ফুলেল শুভেচ্ছা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির ৯০০ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে কলেজ অডিটোরিয়ামে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া কলেজ প্রাঙ্গনে বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে।  

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। মুখ্য আলোচক ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এবং কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক নাজমুল হুসাইন।

 

কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল কালাম সাজাদের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ। অনুষ্ঠান পরিচালনা ও আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন নবীনবরণ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, শিক্ষাজীবন মানুষের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি। এ সময়ে অর্জিত জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, মানবিক গুণাবলি, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এ জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের সময়ের যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত পড়াশোনা এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

 

প্রধান বক্তা এমপি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। এ সময়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করে অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

 

মুখ্য আলোচক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মূল্যবোধ ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু সনদ অর্জন নয়; বরং মানুষের অন্তর্নিহিত সম্ভাবনার বিকাশ ঘটিয়ে মানবকল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করা।

 

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। 

 

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের বিকাশের মধ্য দিয়েও প্রতিষ্ঠানের সার্থকতা প্রকাশ পায়। শিক্ষাজীবন মানুষের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে অর্জিত জ্ঞান, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। এ জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের সময়ের যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত পড়াশোনা এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

 

কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক নাজমুল হুসাইন বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সমাজের অচলায়তন ভেঙে আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

 

এদিকে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ বলেন, নতুন শিক্ষার্থীদের আগমন একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি করে। ৯০০ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করতে পারা কলেজ পরিবারের জন্য আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, সততা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চা, বিতর্ক, সাহিত্যচর্চা ও খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

 

অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান নবীনবরণের তাৎপর্য তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের কলেজের নিয়মকানুন মেনে চলা, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

 

এছাড়া কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের ভাষ্য, দুই প্রশাসকের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও তত্ত্বাবধানে কলেজ ক্যাম্পাস আরও সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠছে। এসব উদ্যোগ শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

 

আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সংগীত, আবৃত্তি ও অন্যান্য পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে কলেজ অডিটোরিয়াম। আনন্দঘন এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন তৈরি হয়।

 

নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাজীবনের সূচনা হলো। জ্ঞান, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের। পরে অতিথিদের নিয়ে বৃক্ষ রোপণ করা হয়।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর