কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১২ই আগস্ট ২০২৬, ১:৫৫ এএম

মিরপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে পাট কাটা ও জাগ দেওয়ার কাজ। মাঠে ভালো ফলন হলেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাটের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে শ্রমিকের বাড়তি মজুরি, সার ও কীটনাশকের উচ্চ দাম এবং বাজারদর নিয়ে অনিশ্চয়তায় অনেক কৃষকই এবার লাভের হিসাব মেলাতে পারছেন না। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে এখন পাট কাটার ব্যস্ততা। চিথলিয়া, বহলবাড়ীয়া, তালবাড়ীয়া, বারুইপাড়া, ফুলবাড়ীয়া, আমলা, সদরপুর, ছাতিয়ান, মালিহাদ, আমবাড়ীয়া, ধুবইল, পোড়াদহ ও কুর্শা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দেখা গেছে একই চিত্র।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষক ও শ্রমিকেরা মাঠে পাট কাটছেন। পরে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খাল, বিল, ডোবা ও জলাশয়ে। সেখানে পাট জাগ দেওয়ার পর আঁশ ছাড়িয়ে শুকানো হচ্ছে। উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আবহাওয়া মোটামুটি অনুকূলে থাকায় এবং বিভিন্ন এলাকায় পাট জাগ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। তবে ভালো ফলন হলেও চাষের খরচ বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কতটা লাভ হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। আমবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, “এবার পাট কাটতে শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি দিতে হচ্ছে। সার-কীটনাশকের দামও বেড়েছে। এত খরচ করে পাট চাষ করেছি, এখন বাজারে ভালো দাম না পেলে লাভ করা কঠিন হবে।”
কৃষকদের ভাষ্য, পাট চাষে জমি প্রস্তুত, শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর খরচই বেড়েছে। পাট কাটার সময় শ্রমিকের চাহিদা বাড়ায় মজুরিও দিতে হচ্ছে বেশি। ফলে বাজারে পাটের দাম আশানুরূপ না হলে উৎপাদন খরচ তুলে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়বে। আমবাড়ীয়া গ্রামের আরেক কৃষক মো: সানোয়ার বলেন, “মাঠে পাট ভালো হয়েছে, এটা দেখে ভালো লাগছে। কিন্তু পাট বিক্রি করার সময় যদি দাম কমে যায়, তাহলে এই ভালো ফলন কোনো কাজে আসবে না। আমরা চাই, পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা হোক।” কৃষকদের দাবি, পাটের পাশাপাশি কৃষি উপকরণের দামও সহনীয় পর্যায়ে রাখা প্রয়োজন। উৎপাদন খরচ কমানো এবং বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।
মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে , পাট কাটার পর সঠিক সময়ে জাগ দেওয়া এবং নির্দিষ্ট নিয়মে আঁশ ছাড়ানো হলে পাটের মান ভালো হয়। এতে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কৃষকদের উন্নত পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মিরপুরের মাঠে এখন পাট কাটাকে ঘিরে ব্যস্ততা। ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও উৎপাদন খরচ ও বাজারদর নিয়ে কৃষকের যে দুশ্চিন্তা, তা দূর করতে পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য