কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

বৃদ্ধ মা ও মেয়ের পাশে কাজল মাজমাদার

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ একদিকে বার্ধক্য ও অসুস্থতা, অন্যদিকে বেকারত্ব আর চরম আর্থিক সংকট। জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন কুষ্টিয়া শহরের তুলাপট্টি এলাকার বাসিন্দা সন্ধ্যা দে ও তার মেয়ে সোমা দে। দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করা এই মা-মেয়ের সংসারে এখন নেই কোনো নিয়মিত আয়ের উৎস। এমন মানবিক সংকটের সময় তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক কাজল মাজমাদার।

গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) সকালে তিনি তাদের বাসায় গিয়ে খোঁজখবর নেন এবং এক মাসের প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। একই সঙ্গে সোমা দের জন্য একটি উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। জানা যায়, স্বামী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের হারিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র মেয়ে সোমা দেকে নিয়েই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন সন্ধ্যা দে। মায়ের সেবাযত্নের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে গিয়ে সোমা দে নিজের বিয়ের কথাও ভাবেননি।

দীর্ঘদিন চাকরি করলেও বর্তমানে সেই চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন তিনি। ফলে সংসারের ব্যয়ভার বহন করা তাদের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে দুর্ঘটনায় সন্ধ্যা দের একটি হাত ভেঙে যায়। একটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ হতে আরও একটি বড় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। পাশাপাশি বয়সজনিত নানা জটিলতায় প্রতি মাসে ব্যয়বহুল ওষুধ সেবন করতে হচ্ছে। কিন্তু অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানোও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসহায় অবস্থার কথা জানতে পেরে নিজ উদ্যোগে তাদের বাড়িতে যান কাজল মাজমাদার।

সহায়তা প্রদানকালে তিনি বলেন, আমি সবসময়ই অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। ফেসবুকে তাদের দুর্দশার কথা জানতে পেরে নিজেই এখানে এসেছি। আপাতত এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছি। পাশাপাশি সোমা দের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেব। তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে। মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি।

সমাজের সবাইকে এমন মানবিক কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। এ সময় আবেগাপ্লুত সন্ধ্যা দে ও সোমা দে তাদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় কাজল মাজমাদারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের মতে, সমাজের বিত্তবানদের এমন মানবিক উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারের কষ্টই লাঘব করে না, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও ছড়িয়ে পড়ুক এমন প্রত্যাশা সবার।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর