কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ১:৩৩ এএম

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পদ্মা নদীতে বালু বোঝায় স্যালোইঞ্জিন চালিত লাটাহাম্বা গাড়ি উল্টে এক শিশু নিখোঁজ নিখোঁজ রয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের শিলাইদহ ঘাট সংলগ্ন কসবা ঘাটপাড়া এলাকায় এ দূর্ঘটনা ঘটে। তাকে উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস, স্বজন ও স্থানীয়রা। নিখোঁজ হওয়া শিশুর নাম মো.আলিফ (৮)।
সে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কসবা এলাকার মনসুর প্রামাণিকের ছেলে। নিখোঁজের প্রায় ৭ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা যায়না। বিকেল ৫টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল দশটার দিকে শিলাইদহ ব্লক এলাকা থেকে একটি বালি বোঝায় লাটা হাম্বা গাড়িতে উঠেছিল চার শিশু আব্দুল আহাদ, জিহাদ, ওমর ফারুক ও মো.আলিফ। পদ্মা নদীপাড়ের পথটি সরু। সেজন্য এক মোটরসাইকেল চালককে সাইড দিতে গিয়ে বালু বোঝায় লাটাহাম্বা গাড়িটি উল্টে পড়ে যায় নদীতে।
এতে চালকসহ চার শিশু নদীতে পড়ে যায়। তখন স্থানীয়রা পদ্মা থেকে তিন শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে আরেক শিশু আলিফকে এখনও পাওয়া যায়নি। পরে খবর পেয়ে কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে এখনও আলিফের কোনো সন্ধান মিলেনি। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহযোগিতা লাটা হাম্বাটি উদ্ধার করা হয়েছে। খবর দেওয়া হয়েছে। খুলনার ডুবুরি দলকেও। বিকেলে সরেজমিন কসবা এলাকায় পদ্মাপারে উৎসুক জনতার ভিড়। শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস, স্বজন ও স্থানীয়রা।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, বালুর গাড়িসহ নদীতে চার শিশু পড়ে গিছিল। তিন জনকে উদ্ধার করা হলেও আলিফ নামের একজন এখনও নিখোঁজ। উদ্ধার হওয়া শিশু ওমর ফারুক (৬) বলল, ‘মামা (চালক জাকির হোসেন) গাড়িতে উঠতে নিষেধ করেছিল। তাও আমরা বালুর ওপর উঠিছিলাম। এরপর নদীতে গাড়ি পড়ে গেলে মামায় আমাকে তুলেছে। কিন্তু আলিফকে আর পাওয়া যায়নি।’ ওমরের বাবারমো.হাফিজুল ইসলাম জানান, ওমর ফারুক তার মামার গাড়িতে উঠেছিলো। আরও দুজন যে বাচ্চা ছিলো তারাও আপন ভাতিজা। সরু পথ হওয়ায় মোটরসাইকেল সাইড দিতে গিয় বালু গাড়িটি স্লিপ করে নদীতে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
তাঁর ভাষ্য, বেশ কয়েকবার গাড়ি থেকে নামানোর পড়েও বাচ্চারা গাড়িতে উঠে পড়েছিল। উদ্ধার হওয়া আরেক শিশু আব্দুল আহাদের ভাষ্য, একটি মোটরসাইকেলকে সাইড দিতে গেলে বালুর গাড়িটি নদীতে উল্টে যায়। পরে লোকজন তিনজনকে উদ্ধার করে। তবে উপরে উঠে সে জানতে পারে আলিফকে পাওয়া যায়নি। কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশনের ইনচার্জ নাসির উদ্দিন জানান,খবর পেয়ে সকাল ১১টা থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তিন শিশু উদ্ধার হলেও একজন নিখোঁজ রয়েছে। খুলনা ডুবরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা পৌছে যাবেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য