খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ১:৭ এএম

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ সিসিটিভি বন্ধ করে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে প্রায় ১০ মণ পুরাতন রড এবং একটি লোহার দরজা চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত সেই প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে শোকজ করা হয়েছে। গতকালমঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, ‘আপনি (প্রধান শিক্ষক) আপনার প্রতিষ্ঠানের পুরাতন রড রাতের আঁধারে বিক্রি করেছেন। এভাবে সরকারি মালামাল বিক্রি করা বিধি সম্মত নয়। বিধায় আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন সুপারিশ করা হবেনা। তা আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেওয়ার অনুরোধ করা হলো। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ২১ জুলাই রাত ৮টার দিকে প্রায় আধাঘণ্টা বিদ্যালয়ে সিসিটিভি বন্ধ ছিল।
ওই সময় প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান এবং নৈশ্যপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমান বিদ্যালয়ের পুরাতন রড ও একটি লোহার দরজা একটি ভ্যানে করে নিয়ে যান। এটি আইনবিরোধী ও ফৌজদারি অপরাধ। এনিয়ে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিব বলেন, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ৮টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে দেখি বিদ্যালয়ের লাইট বন্ধ এবং সেখানে একটি ভ্যানও রয়েছে।
তারপর গুদামঘরের কাছে এসে দেখি প্রধান শিক্ষক, নাইটগার্ড ও একজন ভ্যানচালক ঘর থেকে রড বের করে ভ্যানে সাজাচ্ছেন। তার ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক ও নাইটগার্ড সিদ্দিক এর আগেও রড, ভাঙা বেঞ্চসহ বিভিন্ন মালামাল রাতের বেলায় নিয়ে গেছেন। বিদ্যালয়ের গুদামঘর ঘেঁষেই হাবিবের বাড়ি। তিনি ওই এলাকার মো. আব্দুল করিম মোল্লা। প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাহাত বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিদ্যালয়ের ওয়াইফাই চালাই। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে হেড স্যার বলল নেট বন্ধ করে দিয়েছি, তোমরা এখান থেকে চলে যাও। কিছুক্ষণ পর দেখি ভ্যান ভরে রড নিয়ে যাচ্ছে।
সেসময় স্যার বলল, নেট দিচ্ছি, তোমরা চালাও।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘চুরির কথা শুনে সিসিটিভি চেক করলাম। তাতে দেখা যাচ্ছে, সেদিন রাতে হেডস্যার, নাইটগার্ড ও ভ্যানসহ এক চালক বিদ্যালয়ে ঢুকল। এরপর হঠাৎ সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট পর দেখা যাচ্ছে ভ্যানে করে রড-দরজা নিয়ে যাচ্ছে চালক। তবে ভ্যান চালককে চেনা যাচ্ছেনা।’ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আমিনুর রহমান রোকন বলেন, ‘অন্তত চার থেকে পাঁচ মণ রড ও অন্যান্য মালামাল চুরি হয়েছে। রড চুরির সময় সিসিটিভি বন্ধ ছিল। চুরির আগে ও পরের ফুটেজ আছে। কিছু চেনা যাচ্ছে।
আবার কিছু অস্পষ্ট। তবে সেখানে হেডস্যার ও নাইটগার্ড ছিল। শোকজের চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, বিদ্যালয়ের রড চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি। শোকজের চিঠি পেয়েছি। তিনদিনের মধ্যে জবাব দেবো। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের পুরাতন রড বিক্রির অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব অসন্তোষজনক হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য