দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের মণ্ডলপাড়া গ্রামে নারীদের পোশাক ও বোরকা পরে চুরি করতে যাওয়ার অভিযোগে ইসরাইল (৩০) নামে এক যুবককে আটক করে মারধরের পর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয়রা। তবে ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভাষ্য, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ থাকতে পারে এবং চুরির অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এদিকে, ঘটনাটির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেমারুলের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে আড়িয়া গ্রামের মকলেছুর রহমানের বাড়িতে বোরকা ও নারীদের পোশাক পরিহিত অবস্থায় ইসরাইল প্রবেশ করেন। তিনি ঘরের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে বাড়ির লোকজনের অভিযোগ। এ সময় মকলেছুর রহমানের স্ত্রী মালা খাতুন তাকে দেখতে পেয়ে আটকানোর চেষ্টা করেন। ইসরাইল পালানোর চেষ্টা করলে মালা খাতুনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে ধরে ফেলেন। স্থানীয়দের দাবি, পরে তার পরনে থাকা বোরকা খুলে তাকে পুরুষ হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
এরপর উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করে এবং বেঁধে রাখে। ঘটনার একটি ভিডিওতেও একজন ব্যক্তিকে বোরকা পরা অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক থাকতে দেখা গেছে। ঘটনার তথ্য সংগ্রহের সময় সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য স্থানীয় সংবাদকর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিমারুলের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর সকালে সিমারুল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ না করার জন্য সংবাদকর্মীদের চাপ দেন। এ সময় তিনি “আমার ঠিক ও এমপির ঠিক না শুনে যেন কোনো নিউজ হয় না” এমন বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই বক্তব্য তিনি একাধিকবার পুনরাবৃত্তি করেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। সিমারুল আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির ইউনিয়ন আহ্বায়ক ইনজাল হোসেন। তবে সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়া বা সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সিমারুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ইনজাল হোসেন বলেন, সিমারুল আড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। চুরি বা কোনো অপরাধকে দল সমর্থন করে না। এমপি বাচ্চু মোল্লাও এ ধরনের কোনো অপরাধ সমর্থন করেন না। তবে চুরির বিষয়টি আমাদের তদন্তাধীন।
প্রমাণ পাওয়া গেলে সিমারুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে স্থানীয়রা ইসরাইলকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে তার পা ও কোমরে গুরুতর আঘাতের বিষয়টি ধরা পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসরাইলের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। চুরির সময় সন্দেহ এড়াতে তিনি নারীদের পোশাক ও বোরকা ব্যবহার করেছিলেন বলেও দাবি করেন তারা। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, আড়িয়া এলাকায় একজন ব্যক্তিকে মেয়েদের পোশাক পরা অবস্থায় চোরের অপবাদে স্থানীয়রা বেধড়ক মারধর করেছে।
এতে তার পা ও কোমরে ভালোভাবে আঘাত লাগে। এ কারণে তাকে আমরা আটক দেখাইনি। ওসি আরও বলেন, এঘটনায় দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই দ্বন্দ্ব রয়েছে। সেই কারণেও ঘটনাটি ঘটতে পারে। চুরির অভিযোগ করা ব্যক্তিরা চুরির কোনো সঠিক আলামত দেখাতে পারেননি। এঘটনায় দুই পরিবার থেকে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চুরি-ছিনতাই নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা রাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের টহল বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।









