কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে ২২ বছর ধরে চলছে বিনামূল্যের চক্ষু চিকিৎসা

মিজানুর রহমান নয়ন, কুমারখালী ॥ কাউকে ভর করে, কেউ লাঠি হাতে, আবার কেউ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর আলাউদ্দিন নগরে। চোখে ঝাপসা দেখা, ব্যথা, ছানি কিংবা দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার চিকিৎসা নিতে হাসপাতাল চত্বরে ভিড় করেছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। গতকাল রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিন তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তাঁদেও ভাষ্য, কেউ এসেছেন মাইকের প্রচার শোনে। আবার কেউবা এসেছেন ফেসবুকে দেখে।

সেখানে প্রতি বছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম। এতে সহযোগীতা করছে আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন, দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন ও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। দুইদিনে প্রায় চার হাজার মানুষকে সেবা প্রদান করা হবে। তারমধ্যে অন্তত দুই হাজার জনকে ছানি অপারেশন করা হবে। ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। খোকসা থেকে আসা ষাটোর্ধ মো. আজাহার বলেন, এখান থেকে গতবছর এক চোখের ছানি অপারেশন করেছিলাম। টাকা পয়সা লাগেনা।

সেবার মানও ভালো। আরেক চোখে ঝাপসা দেখছি। তাই এবার আয়ছি। ফেসবুকে বিনামূল্যে চিকিৎসার কথা শুনে কুষ্টিয়ার জগতি থেকে এসেছেন গৃহিণী জেসমিন বেগম। তিনি বলেন, ছানি কাটতে এক ক্লিনিক ৬০ হাজার টাকা চায়ছে। সবাই বলল আলাউদ্দিন নগরের বিনামূল্যের চিকিৎসা ভালো। সেজন্য আসছি। এখানে অনেক লোকের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে চিকিৎসা ভালোই হয়। কুমারখালীর চাঁদপুর ইউনিয়নের মহননগর পশ্চিমপাড়ার সিরাজুল ইসলামের কৃষক ছেলে ওহিদুল ইসলাম বলেন, মাইকে শুনে সকাল ৬টার দিকে এসেছি। ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা – নিরিক্ষা সব ফ্রি। একটা চশমাও দিয়েছে ফ্রি ফ্রি। খুব ভালো চিকিৎসা।

খুব যত্ন করে গাড়িতে খুলনা নিয়ে যায়, আবার আনে। খুব ভালো চিকিৎসা লোকমুখে এসব কথা শোনে কুষ্টিয়ার উদিবাড়ি থেকে এসেছেন মঞ্জুয়ারা খাতুন ( ৫৭)। তিনি বলেন, চোখে ছানি পড়েছে। বাইরের ডাক্তার ২৫ – ৩০ হাজার টাকা চায়ছে। কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ ফ্রি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বেসরকারী চাকুরিজীবি বলেন, এখানে ধনী – গরিব সব শ্রেণির মানুষই আসে। সেবার মানও ভালো। বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে এসেছি। বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করাবো। আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করে চলেছেন। আরও আলাউদ্দিন তৈরি হলে সমাজের কেউ আর চোখের জ্যোতি হারাবেনা। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের নিবন্ধন, লাইনে শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তায় কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এমন মানবিক কর্মসূচিতে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত স্বেচ্ছাসেবী রুমা খাতুন।

খুলনা বিএনএসবি হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মো. বাপ্পী বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় চলছে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ক্যাম্প। এখানে বয়োস্ক রোগীদের সংখ্যায় বেশি। অর্থের অভাবে যেন কোনো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের আলো নিভে না যায়। সেজন্য আলাউদ্দিন আহমেদ ২০০৪ সাল থেকে বিনামূল্যে এমন ক্যাম্প চালিয়ে আসছেন বলে জানিয়েছেন তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গতবছরের দুই হাজার জনসহ এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা দেওয়া হয়েছে। তারমধ্যে প্রায় ২২ হাজার জন ছানি অপারেশনের রোগী রয়েছে।

এবছর প্রায় চার হাজার জনকে সেবাদানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তারমধ্যে দুই হাজার জনের ছানি অপারেশন করা হবে। আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম জানান, বাছায়কৃত রোগীদের খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হয়। থাকা, খাওয়া, যাতাযাত, চিকিৎসা সবই বিনামূল্যে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর