কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার আড়ালে অমি-রনি’র মাদকের রাজত্ব

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘরের ছেলে হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়ার আব্দুল জলিলের দুই ছেলে অমি-রনি। আওয়ামী সরকারের ১৬ বছরে তাদের সম্পদের পরিমান ষোল গুণের অধিক ফুলে ফেঁপে টয়টম্বুর। সজীব থেকে এসকে সজীব তৈরির কারিগর এ দুই ভাইয়ের গত ১৬ বছরের ইতিহাস অনেক কিছুর জানান দেয়। সাধারণ মানুষের কাছে ট্রান্সপোর্ট মালিক হিসেবে পরিচিত অমি ও রনি দুই ভাই।

বয়সে রনি বড়, অমি ছোট। ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠানের নাম অমি-রনি ট্রান্সপোর্ট হওয়ায় কুষ্টিয়া বাসী এদের দুই ভাইকে একত্রে অমি-রনি নামেই ডাকে। একসময় টিম টিম আলোতে চলতে থাকা অমি-রনি ট্রান্সপোর্ট মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আলোকিত হয়ে উঠে। বর্তমানে ট্রান্সপোর্ট টিতে কয়েকশ ট্রাক, কাভার্ডভ্যান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হঠাৎ জ্বলে ওঠার পিছনে সেই আশ্চর্য দিশালয়ের নাম মাদক। শুনে অবাক হবারই কথা।

জানা যায়, অমি-রনি ট্রান্সপোর্ট বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের আড়ালে মাদক পরিবহন করতেন। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কুষ্টিয়া ও তার আশপাশের কয়েকটি জেলা মাদকের হাট হিসেবেই পরিচিত। ভারত থেকে এ জেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ফেন্সিডিল, হেরোইন, কোকেন, ইয়াবা ট্যাবলেট নামক এসব মাদক খুব সহজেই জেলা শহর সহ আনাচে কানাচে পৌঁছে যায়। শুধু তাই নয় ভারত থেকে আসা এসব মাদকের বড় বড় চালান প্রতিদিনই কোন না কোন ভাবে রাজধানী সহ অন্যান্য জেলায় পৌঁছে যায়।

কুষ্টিয়া থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক পরিবারের একটি নির্ভরযোগ্য ট্রান্সপোর্ট অমি-রনি ট্রান্সপোর্ট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজ ঘরের ছেলেদের প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানের ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর দেওয়ার সুযোগ ছিলোনা। যার কারণে খুব সহজে এই পরিবহন ব্যবহার করে মাদক পৌঁছে দেওয়া যেতো। প্রতিষ্ঠান শুরুর দিকে জেলার বড় বড় মাদক কারবারিদের থেকে মাদক নিয়ে পরিবহন করা হলেও কয়েক বছর যেতে না যেতেই অমি-রনি জেলার অন্যতম বড় মাদক কারবারি বনে।

নিজেই ব্যবসায়ী, নিজেই সরবরাহকারী তারা। বাংলাদেশে মাদক অবৈধ হওয়ায় এর মুল্য যেমন বেশি তেমন ব্যবসায়ীদের লাভের পরিমাণও বেশি। সেজন্য আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হতে দুই ভাইকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অমি-রনির ত্রাসের রাজত্বের সামনে মুখ খুলতে সাহস না পাওয়া অনেকেই এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। পুলিশে নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্য, মদ-নারী সরবরাহ করে কুষ্টিয়ার একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ফ্যাক্টরিতে একচ্ছত্র আধিপত্য, কিশোর গ্যাং দিয়ে মাদক ব্যবসা পরিচালনা সহ নানা বিষয়ে অনেকেই মুখ খুলেছে।

Tags :

Desk Reporter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর