কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ১:৩১ এএম

রঞ্জুউর রহমান ॥ শিক্ষামন্ত্রণালয় ঘোষিত সময় অনুযায়ী গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) সারা দেশে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। ফলাফল অনলাইনে প্রকাশিত হওয়ার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ফলাফল সংগ্রহের জন্য শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো প্রায় শূন্যের কোটায়। তবে ফলাফল প্রকাশের পর জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে ছোট ছোট গ্রুপ আকারে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিলো লক্ষনীয়।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে ৯৯ দশমিক ২৬ শতাংশ পাশের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে প্রথমে রয়েছে কুষ্টিয়া সরকারী বালিকা বিদ্যালয়। জেলা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কষ্টিয়া জেলার এবছর এসএসসি ও সমমান (দাখিল ও (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ২৪ হাজার ৭৪৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড (যশোর)’র অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় ১৯ হাজার ৮৭৪ জন শিক্ষার্থী, দাখিল পরীক্ষায় ২ হাজার ১৭৭ জন শিক্ষার্থী এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ২ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে।
জেলার মোট ৩৪টি শিক্ষা কেন্দ্রে মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ড (যশোর)’র এসএসসি পরীক্ষার্থীরা ১৬ টি কেন্দ্রে, দাখিল পরীক্ষার্থীরা ৮ টি কেন্দ্রে এবং এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীরা ১০ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, কুষ্টিয়া জেলার ৬টি উপজেলায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৬২.৯০ শতাংশ, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৬ জন। জেলায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়। ফলাফল অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ২৭১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। যা পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীদের ৭০.১১ শতাংশ।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুষ্টিয়া জেলা স্কুল। এ প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৬ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এডুকেয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৪ জন শিক্ষার্থী। এছাড়াও জেলার শতভাগ ছাত্র-ছাত্রী পাস তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো; কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হাসিব ড্রিম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সানআপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ফলাফলে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে পাসের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
কোথাও তুলনামূলক ভালো ফল হলেও কয়েকটি উপজেলায় পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। তবে শহর কেন্দ্রিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ফলাফলে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর থেকে এগিয়ে রয়েছে। জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে কুষ্টিয়া সদরে পাসের হার সবচেয়ে বেশি। কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ৬ হাজার ৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৪ হাজার ৩৩০ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৬৯৮ জন। এ উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ২৪ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৭১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়াও দাখিল পরীক্ষায় সদর উপজেলায় ৪১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩২৬ জন কৃতকার্য এবং ৯৩ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৮০ শতাংশ।
অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষায় ৪২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬০ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ জন। এ বিভাগে পাসের হার ৬১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। কুমারখালী উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পাসের হার ৫৯.৮৪ শতাংশ। কুমারখালী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৪০১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৩৫ জন কৃতকার্য এবং ১ হাজার ৩৬৬ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫৮ জন। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
এছাড়াও, দাখিলে ৫৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৬৬ জন কৃতকার্য ও ৩০৫ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন। পাসের হার ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কারিগরি বিভাগে ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩২ জন কৃতকার্য এবং ২২২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ জন। পাসের হার ৫৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ভেড়ামারায় উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পাসের হার ৬০.০৪ শতাংশ। ভেড়ামারা উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৯৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১৮৭ জন কৃতকার্য এবং ৭৯০ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬১ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এছাড়াও, দাখিল পরীক্ষায় ১৪৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭২ জন কৃতকার্য ও ৭৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৪৮ শতাংশ। খোকসায় উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পাসের হার ৬০ শতাংশ।
খোকসা উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৩১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৯৭ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন। পাসের হার ৬০ শতাংশ। এছাড়াও, দাখিল পরীক্ষায় ২৩৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৯ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন। পাসের হার ৪৭ শতাংশ। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষায় ৪১৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩২ জন কৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পাসের হার ৫৬ শতাংশ। মিরপুরে উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ। মিরপুর উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় ৩ হাজার ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ৭৭১ জন কৃতকার্য এবং ১ হাজার ২৭২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২৯ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। এছাড়াও, দাখিল পরীক্ষায় ৪৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৪ জন কৃতকার্য এবং ২৬৭ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ০৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, কারিগরি বিভাগে ৩০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩৫ জন কৃতকার্য এবং ১৭৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় সাধারণ এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার তুলনামূলকভাবে বেশি ৭১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অন্যদিকে
মিরপুর উপজেলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ। দাখিল পরীক্ষায়ও উপজেলার মধ্যে ফলাফলে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। সদর উপজেলায় দাখিলে পাসের হার ৭৭ দশমিক ৮০ শতাংশ হলেও মিরপুরে তা ৩৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। ফলে জেলার সামগ্রিক ফলাফলের পাশাপাশি উপজেলা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে পিছিয়ে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান এবং ঝরে পড়া রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এদিকে জেলায় এবার মোট ১ হাজার ৮৬৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় ভালো ফল করা শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তবে সামগ্রিক পাসের হার ৬২ দশমিক ৯০ শতাংশ হওয়ায় জেলার শিক্ষার মানোন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য