কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১১ই আগস্ট ২০২৬, ১:২৮ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাগল ব্যবসায়ীকে মারধর করে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. হানিফ (৫০) নামে এক ছাগল ব্যবসায়ী। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ আগস্ট দুপুর ১টার দিকে ছাগল বিক্রি করে নতুন করে ছাগল কেনার জন্য চুয়াডাঙ্গার বামুন্দির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন হানিফ।
পথে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকায় ড. মনিরুল ইসলামের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ডেকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হানিফের অভিযোগ, বাড়ির ভেতরে নিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত ও কালশিরা জখম হন। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগে আরও বলা হয়, তাকে দিয়ে জোর করে তিন বস্তা ময়লা পরিষ্কার করানো হয়।
এ সময় লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করা হয় এবং জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। এ ঘটনায় ৮ আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানায় ড. মো. মনিরুল ইসলাম ও সোহেল স্যার নামে দুজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন হানিফ।
তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ড. মো. মনিরুল ইসলাম (সোহেল )। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তি তার বাড়ির সামনে নিয়মিত ময়লা ফেলতেন। গত বৃহস্পতিবার তাকে কয়েক বস্তা ময়লা বাড়ির সামনে ফেলতে দেখে ডেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। পরে ওই ব্যক্তি নিজের ভুল স্বীকার করে ময়লাগুলো সরিয়ে নিয়ে যান। ড. মনিরুল ইসলামের দাবি, এরপর ওই ব্যক্তির ছেলে কয়েকটি মোটরসাইকেলে লোকজন নিয়ে তার বাসার সামনে এসে ইট-পাটকেল ছুড়ে সিসি ক্যামেরা ও বাসার থাইগ্লাস ভাঙচুর করেন।
এ ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তার কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, মানবিক কারণে আমি সেদিন থানায় কোনো অভিযোগ করিনি। তাদের ভুল শুধরে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম। অথচ এখন আমার বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার যে বিষয়টি এসেছে সেটিও অসত্য বলে দাবি করেন ড. মনিরুল ইসলাম । এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কবির হোসেন মাতুব্বর জানায়, অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য