কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ১:৫৮ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের আয়োজনে ক্রীড়া আঘাত ও প্রতিরোধ, আধুনিক চিকিৎসা এবং মাঠের পুনর্বাসন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মেডিকেল কলেজের মাল্টিপারপাস হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও কুষ্টিয়া বিএমএ সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. মঈন উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অধ্যাপক ড. অনুপম হোসেন, জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া উন্নয়ন ও ক্রীড়া চিকিৎসা পরামর্শক, ঢাকা। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ক্লিন কুষ্টিয়া গ্রীন কুষ্টিয়া সামাজিক সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ আকরামুজ্জামান। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ (গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি) সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব ডা. এস. এম. খসরুজ্জামান। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিনিয়র কনসালটেন্ট, কার্ডিওলজি ডা. মোঃ নাসিমুল বারী বাপ্পী। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি); বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ও খুলনা বিভাগীয় কোচ কাজী এমদাদুল বাশার রিপন প্রমূখ। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। এ
তে সার্বিক সঞ্চালনা করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন এন্ড পাবলিক হেলথ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ অনামিকা অধিকারী। ক্রীড়াক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আঘাতের কারণ, আঘাত প্রতিরোধের কৌশল, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং মাঠ পর্যায়ে আহত খেলোয়াড়দের দ্রুত ও কার্যকর পুনর্বাসনের বিভিন্ন দিক নিয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আলোচনা করা হয়। এসময় প্রধান অতিথি বলেন, খেলাধুলার সময় সঠিক প্রস্তুতি, ওয়ার্ম-আপ, শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী অনুশীলন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনেক ধরনের ক্রীড়া আঘাত প্রতিরোধ করা সম্ভব। কোনো খেলোয়াড় আঘাতপ্রাপ্ত হলে দ্রুত সঠিক মূল্যায়ন ও চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যথাযথ পুনর্বাসন গুরুত্বপূর্ণ। এতে খেলোয়াড় দ্রুত সুস্থ হয়ে নিরাপদে মাঠে ফিরতে পারেন এবং পুনরায় আঘাতের ঝুঁকিও কমে।
বিশেষ অতিথি প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, ক্রীড়া শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি সুস্থ ও সুন্দর জাতি গঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ক্রীড়াক্ষেত্রে আঘাত পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে মাঠ পর্যায়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও সঠিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করা গেলে একজন খেলোয়াড় দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও খেলায় ফিরতে পারেন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের আয়োজনে ক্রীড়া আঘাতের প্রতিরোধ, আধুনিক চিকিৎসা ও মাঠের পুনর্বাসন বিষয়ে এ ধরনের কর্মশালা অত্যন্ত সময়োপযোগী।
তিনি আরো বলেন, আমরা চাই কুষ্টিয়াসহ দেশের প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হোক এবং আমাদের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা পান। সুস্থ, মাদকমুক্ত ও কর্মক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলতে খেলাধুলার প্রসার এবং ক্রীড়া চিকিৎসার উন্নয়নকে আরও গুরুত্ব দিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, আজকের এই সেমিনার থেকে যে মূল্যবান পরামর্শ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আমি আশা করি, আমাদের ক্রীড়া সংগঠক, কোচ এবং নীতিনির্ধারকগণ এই সুপারিশগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করবেন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত-একটি “ইনজুরি-মুক্ত ও নিরাপদ” ক্রীড়াঙ্গন গড়ে তোলা, যেখানে আমাদের খেলোয়াড়রা সম্পূর্ণ ফিট থেকে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে পারে। তিনি আরো বলেন, খেলার মাঠে নামার আগে উপযুক্ত ক্রীড়া সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞান এখন অনেক উন্নত।
আশাকরি আধুনিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা গুরুতর আঘাত বা ইনজুরি কাটিয়ে আবার মাঠে ফিরে আসবে। উল্লেখ্য, কর্মশালায় ক্রীড়া চিকিৎসার আধুনিক পদ্ধতি, প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা, ফিজিওথেরাপি, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং মাঠে চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে ব্যবহারিক আলোচনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, ক্রীড়াবিদদের নিরাপদ ও সুস্থ ক্রীড়াজীবন নিশ্চিত করতে ক্রীড়া আঘাত সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য