কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ১:৩৮ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার “মসলা গ্রাম” চাষীদের সাথে মতবিনিময় ও মশলা গাছের চারা রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষকদের মসলা চাষে উৎসাহিত করা, মসলা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয়ভাবে মসলার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের বড়ীয়া এলাকার “মশলা গ্রামে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। তিনি মসলা চাষীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং মসলা গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালী খাতুন, বটতৈল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাজী শাহজাহান আলী হান্নান প্রমূখ। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল বাদশা। এছাড়া স্থানীয় কৃষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মসলা চাষের বিভিন্ন দিক, চাষাবাদ পদ্ধতি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মতবিনিময়কালে কৃষকরা মসলা চাষের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসময় প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে কৃষি।
কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, আর কৃষি সমৃদ্ধ হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি সবসময় কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার এবং কল্যাণের কথা বলে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা এবং কৃষিকে লাভজনক পেশায় পরিণত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরা যে মসলা গাছের চারা রোপণ করছি, এগুলো শুধু গাছ নয়-এগুলো আমাদের কৃষকের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতীক। কৃষকদের শুধু চারা দিলেই হবে না। চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি, উন্নতমানের বীজ ও চারা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার বিষয়েও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের পাশাপাশি একটি স্বনির্ভর কৃষিভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। এছাড়া কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মসলা চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি উন্নত জাতের চারা, সঠিক পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে অতিথিরা “মসলা গ্রাম” এলাকায় বিভিন্ন মসলা গাছের চারা রোপণ করেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের মসলা চাষে আগ্রহী করার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়ানো এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান করার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য