খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জানুয়ারি ২০১৫, ৩:১৫ পিএম

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত কুষ্টিয়া জেলা একটি ঐতিহাসিক জনপদ। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আধুনিককাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের প্রশাসনিক ও সামাজিক বিবর্তন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। পদ্মা, গড়াই এবং কুমার নদের পলিমাধুর্যপূর্ণ অববাহিকায় গড়ে ওঠা কুষ্টিয়া জেলাটি মোট ৬টি প্রশাসনিক উপজেলা নিয়ে গঠিত। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাউল সম্রাট লালন সাঁই এবং ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতিবিজড়িত এই জেলার প্রতিটি উপজেলার রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্র ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক অবদান। কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা এবং দৌলতপুর—এই ছয়টি উপজেলার বিস্তারিত ইতিহাস, ভৌগোলিক সীমানা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং জনপদভিত্তিক বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।

কুষ্টিয়া জেলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এই জেলার প্রধান প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। গড়াই নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই শহরটি ব্রিটিশ আমল থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং শিল্পায়নের দিক থেকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পুরো জেলার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আয়তন ৩১৬.২৬ বর্গকিলোমিটার। অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাঞ্চলের দিক থেকে এটি ২৩°৪২´ থেকে ২৩°৫৯´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫৫´ থেকে ৮৯°০৪´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এ উপজেলার উত্তরে পাবনা জেলার পাবনা সদর উপজেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলা, দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা, পূর্বে কালীগঙ্গা নদী ও কুমারখালী উপজেলা এবং পশ্চিমে মিরপুর উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা অবস্থিত।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা একটি সুবিন্যস্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত হয়। স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী এই উপজেলার কাঠামোগত বিন্যাস নিম্নরূপ:
পৌরসভা: ১টি
ইউনিয়ন: ১২টি
ওয়ার্ড: ১২৯টি
ব্লক: ৪৩টি
মৌজা: ১২৩টি
গ্রাম: ১৬৮টি
বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত: ১৩৪৮ মি.মি.
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অধীনস্থ ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে গ্রামীণ জনপদের বৈচিত্র্যময় রূপ দেখতে পাওয়া যায়। উল্লেখযোগ্য ইউনিয়ন ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে রয়েছে আলামপুর, আইলচারা, আবদালপুর, জিয়ারখি (বা জিয়ারখি ইউনিয়ন), ঝাউদিয়া, হরিনারায়ণপুর, হাটশ হরিপুর, উজানগ্রাম, পাটিকাবাড়ী, কাঞ্চনপুর এবং আশেপাশের জনপদ। এই ইউনিয়নগুলোর অধীনে থাকা ১৬৮টি গ্রামে মূলত কৃষি, মৎস্যচাষ এবং কুটির শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অর্থনীতির প্রধান প্রাণকেন্দ্র হলো এর কৃষি উৎপাদন এবং চালের বিশাল মোকাম। বিশেষ করে সদর উপজেলার খাজানগর এলাকাটি বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহত্তম চাল উৎপাদন ও বিপণন কেন্দ্র বা ‘রাইস মিল হাব’ হিসেবে দেশজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছে। এখানে শত শত আধুনিক অটোমেটিক ও হাসকিং রাইস মিলের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার টন চাল উৎপাদিত হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ভারী শিল্প হিসেবে বিআরবি কেবলসসহ বিভিন্ন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা এই উপজেলার অর্থনৈতিক ভিত্তিকে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে।
কুষ্টিয়া জেলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মুকুটে সবচেয়ে উজ্জ্বল রত্ন হলো কুমারখালী উপজেলা। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সাধনা, বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক সাধনা এবং বাংলা উপন্যাসের আদি পুরুষ মীর মশাররফ হোসেনের জন্মস্থান ও কর্মক্ষেত্র হিসেবে এই উপজেলা বিশ্বজুড়ে পরিচিত। গড়াই ও মরা নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই জনপদ ইতিহাস ও সাহিত্যে অনন্য উচ্চতায়াসীন।
কুমারখালী উপজেলার আয়তন ২৫৮.৩৮ বর্গকিলোমিটার (যা প্রায় ৬৩,৭৯৯ একর)। এটি ২৩°৪৪´ থেকে ২৩°৫৮´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০৯´ থেকে ৮৯°২২´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এর উত্তরে পাবনা জেলার পাবনা সদর উপজেলা, দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা, পূর্বে খোকসা উপজেলা এবং পশ্চিমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা অবস্থিত।
কুমারখালী উপজেলার প্রশাসনিক ও ভৌগোলিক বিন্যাস বেশ বিস্তৃত। এর অধীনস্থ এলাকাগুলোর পরিসংখ্যান নিম্নরূপ:
পৌরসভা: ১টি
ইউনিয়ন: ১১টি
ওয়ার্ড: ১০৮টি
ব্লক: ৩৪টি
মৌজা: ১৮৬টি
গ্রাম: ২০২টি
বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত: ১৪৭৯ মি.মি.
কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বহন করছে। এখানে বসেই কবি তাঁর জীবনের অত্যন্ত সৃষ্টিশীল সময় কাটিয়েছেন এবং বিখ্যাত ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের একটি বড় অংশের অনুবাদ ও রচনা সম্পন্ন করেছেন, যার জন্য তিনি ১৯১৩ সালে এশিয়ার প্রথম নোবেল বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া ছেউড়িয়া গ্রামে অবস্থিত বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইজির মাজার শরিফ সারা বিশ্বের মানবতাবাদী ও বাউল সাধকদের অন্যতম প্রধান তীর্থস্থান। পদমদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতিবিজড়িত স্থানও এই উপজেলায় অবস্থিত।
কুমারখালী উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে শিলাইদহ, পান্টি, যদুবয়রা, কয়া, বাগুলাট, নন্দলালপুর, চাপড়া, সদকী, চাঁদপুর, পান্টি এবং অন্যান্য ইউনিয়ন। এখানকার ২০২টি গ্রামে গ্রামীণ বাংলার চিরচেনা রূপের পাশাপাশি তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। কুমারখালীর লুঙ্গি, গামছা এবং জামদানি শাড়ি দেশজুড়ে পাইকারি বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
কুষ্টিয়া জেলার পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত খোকসা উপজেলা একটি শান্ত ও বর্ধিষ্ণু জনপদ। গড়াই নদীর তীরে অবস্থিত এই উপজেলা কৃষি এবং লোক সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। তুলনামূলকভাবে ছোট আয়তনের এই উপজেলাটি তার ঐতিহাসিক পটভূমি এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।
খোকসা উপজেলার ভৌগোলিক সীমানা বেশ সংহত। এর উত্তরে কুমারখালী উপজেলা ও পাবনা সদর উপজেলা, দক্ষিণে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলা, পূর্বে রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা এবং পশ্চিমে কুমারখালী উপজেলা অবস্থিত।
খোকসা উপজেলার প্রশাসনিক ও ভূপ্রাকৃতিক বিন্যাস নিম্নরূপ:
পৌরসভা: ১টি
ইউনিয়ন: ৯টি
ওয়ার্ড: ৯০টি
ব্লক: ২৮টি
মৌজা: ৭৯টি
গ্রাম: ১০৫টি
বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত: ৫১ মি.মি. (তুলনামূলক স্বল্প বৃষ্টিপাত অঞ্চল)
খোকসা উপজেলার অধীনস্থ ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে জানিপুর, শোমসপুর, গোপগ্রাম, বেতবাড়িয়া, শিমুলিয়া, জয়ন্তীহাজরা, ওসমানপুর এবং খোকসা সদর ইউনিয়ন। এই ৯টি ইউনিয়নের অধীনস্থ ১০৫টি গ্রামে মূলত কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা বিদ্যমান। এখানকার প্রধান কৃষিপণ্ডের মধ্যে ধান, পাট এবং বিভিন্ন শাকসবজি উৎপাদিত হয়। গড়াই নদীর অববাহিকা হওয়ায় এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর, যা স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদনে সহায়তা করে।
কুষ্টিয়া জেলার অন্যতম বৃহৎ ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলা হলো মিরপুর উপজেলা। ব্রিটিশ আমল থেকে রেল যোগাযোগ এবং কৃষি বাণিজ্যের কারণে এই অঞ্চলটি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। ঐতিহাসিক পোড়াদহ জংশন এবং প্রখ্যাত আমলা এলাকা এই উপজেলার অংশ।
মিরপুর উপজেলার আয়তন ৩১৭.৩৫ বর্গকিলোমিটার। এটি ২৩°৪৫´ থেকে ২৪°০০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°৫০´ থেকে ৮৯°০৬´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এর উত্তরে ভেড়ামারা উপজেলা ও পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা, দক্ষিণে আলমডাঙ্গা উপজেলা ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, পূর্বে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এবং পশ্চিমে দৌলতপুর উপজেলা, মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা ও চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা অবস্থিত।
মিরপুর উপজেলার প্রশাসনিক ও জনমিতিক বিন্যাস বেশ বিস্তৃত:
পৌরসভা: ১টি
ইউনিয়ন: ১৩টি
ওয়ার্ড: ১২৬টি
ব্লক: ৪০টি
মৌজা: ১১৬টি
গ্রাম: ১৮৮টি
বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত: ২৩৮ মি.মি.
মিরপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে আমলা, পোড়াদহ, ছাতিয়ান, বহলবাড়ীয়া, মালিহাদ, ধুবইল, বারুইপাড়া, চিথলিয়া, তালবাড়ীয়া, সদরপুর এবং অন্যান্য অঞ্চল। এখানকার ১৮৮টি গ্রামে নিবিড় চাষাবাদ হয়ে থাকে। মিরপুর উপজেলা মূলত ধান, পাট এবং তামাক চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। দেশের শীর্ষস্থানীয় তামাক ও সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঁচামালের একটি বড় জোগান আসে এই মিরপুরের মাঠঘাট থেকে। এছাড়া এখানকার পোড়াদহ জংশন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান হাব।
পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত ভেড়ামারা উপজেলা কুষ্টিয়া জেলার শিল্প ও প্রকৌশল খাতের একটি অত্যন্ত কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ব্রিটিশ আমলের প্রকৌশল কীর্তি হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এবং আধুনিক লালন শাহ সেতু এই উপজেলাকে উত্তরাঞ্চলের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের সংযুক্ত করেছে। এছাড়া ঐতিহাসিক গঙ্গা-পদ্মা বহুমুখী সেচ প্রকল্প (G-K Project) ভেড়ামারার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
ভেড়ামারা উপজেলা ২৪.০১৬৭° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮.৯৯১৭° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এর আয়তন ১৫৩.৭২ বর্গকিলোমিটার। ভেড়ামারার উত্তরে নাটোর জেলার লালপুর উপজেলা, দক্ষিণে মিরপুর উপজেলা, পূর্বে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলা এবং পশ্চিমে দৌলতপুর উপজেলা অবস্থিত।
ভেড়ামারা উপজেলার প্রশাসনিক বিন্যাস তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম:
পৌরসভা: ১টি
ইউনিয়ন: ৬টি
ওয়ার্ড: ৬৩টি
ব্লক: ১৯টি
মৌজা: ৪৩টি
গ্রাম: ৯২টি
বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত: ১০২০ মি.মি.
ভেড়ামারা উপজেলার অধীনস্থ ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে রয়েছে বাহাদুরপুর, ধরমপুর, জুনিদহ, চাঁদগ্রাম, মোকারিমপুর এবং জুনিয়াদহ বা বারাকপুর অঞ্চল। এই ৬টি ইউনিয়নের ৯২টি গ্রামে কৃষি ও উদ্যান কৃষির ব্যাপক চর্চা হয়। ভেড়ামারার মিষ্টি পান এবং কলা দেশজুড়ে সমাদৃত। এখানকার পান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
আয়তন এবং জনসংখ্যার দিক থেকে কুষ্টিয়া জেলার বৃহত্তম উপজেলা হলো দৌলতপুর উপজেলা। পদ্মা নদী বেষ্টিত এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এই উপজেলাটি তার সুদীর্ঘ ইতিহাস, চরাঞ্চল এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। এই উপজেলার সর্ব পূর্বের সীমান্তবর্তী গ্রাম হলো মহিষকুন্ডি এবং সর্বপশ্চিমের শেষ সীমানায় রয়েছে আল্লাহরদর্গা এলাকা।
দৌলতপুর উপজেলার আয়তন ৪৬১ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলা ও নাটোর জেলার লালপুর উপজেলা, দক্ষিণে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা ও মিরপুর উপজেলা, পূর্বে ভেড়ামারা উপজেলা ও মিরপুর উপজেলা এবং পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত।
বৃহত্তম আয়তনের এই উপজেলার প্রশাসনিক বিন্যাস নিম্নরূপ:
পৌরসভা: ০টি (সম্পূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সরকার চালিত)
ইউনিয়ন: ৮টি (প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস অনুযায়ী বিভিন্ন ইউনিয়ন ও স্থানীয় ওয়ার্ড সংযুক্ত)
ওয়ার্ড: ২৪টি
ব্লক: ২৪টি
মৌজা: ১৪৯টি
গ্রাম: ১৮৮টি
বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত: ২১১৪ মি.মি. (অঞ্চলভেদে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত প্রবণ)
দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মধ্যে প্রাগপুর, ফিলিপনগর, রিফায়েতপুর, হোগলবাড়িয়া, মথুরাপুর, বোয়ালিয়া, মরিচা, রামকৃষ্ণপুর এবং চিলমারী উল্লেখযোগ্য। পদ্মার ভাঙন ও চরাঞ্চলের বৈচিত্র্যময় জীবন নিয়ে গড়া এই অঞ্চলের ১৮৮টি গ্রামে প্রচুর পরিমাণে ধান, পাট, ভুট্টা এবং বিভিন্ন ফলমূল উৎপাদিত হয়। দৌলতপুরের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সীমান্ত এলাকা বাণিজ্যের দিক থেকেও অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রাগপুর সীমান্তে স্থলবন্দর চালুর প্রস্তাবনা এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে ভবিষ্যতে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হয়।
কুষ্টিয়া জেলার ছয়টি উপজেলার আয়তন, ইউনিয়ন সংখ্যা এবং প্রশাসনিক উপাত্ত একনজরে দেখার জন্য নিচের টেবিলটি ব্যবহার করা যেতে পারে:
| উপজেলার নাম | আয়তন (বর্গ কিমি) | পৌরসভা | ইউনিয়ন সংখ্যা | মৌজা সংখ্যা | গ্রাম সংখ্যা |
| কুষ্টিয়া সদর | ৩১৬.২৬ | ১টি | ১২টি | ১২৩টি | ১৬৮টি |
| কুমারখালী | ২৫৮.৩৮ | ১টি | ১১টি | ১৮৬টি | ২০২টি |
| খোকসা | ছোট আয়তন | ১টি | ৯টি | ৭৯টি | ১০৫টি |
| মিরপুর | ৩১৭.৩৫ | ১টি | ১৩টি | ১১৬টি | ১৮৮টি |
| ভেড়ামারা | ১৫৩.৭২ | ১টি | ৬টি | ৪৩টি | ৯২টি |
| দৌলতপুর | ৪৬১.০০ | ০টি | ৮টি | ১৪৯টি | ১৮৮টি |

প্রশ্ন ১: কুষ্টিয়া জেলায় মোট কয়টি উপজেলা রয়েছে?
উত্তর: কুষ্টিয়া জেলায় মোট ৬টি উপজেলা রয়েছে।
প্রশ্ন ২: কুষ্টিয়া জেলার আয়তনে সবচেয়ে বড় উপজেলা কোনটি?
উত্তর: দৌলতপুর উপজেলা কুষ্টিয়া জেলার আয়তনের দিক থেকে সবচেয়ে বড় উপজেলা (প্রায় ৪৬১ বর্গকিলোমিটার)।
প্রশ্ন ৩: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের প্রধান অংশ কুষ্টিয়ার কোন উপজেলায় রচিত হয়?
উত্তর: কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়েছেন এবং এই কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
প্রশ্ন ৪: কুষ্টিয়ার কোন উপজেলায় বিখ্যাত হার্ডিঞ্জ ব্রিজ অবস্থিত?
উত্তর: ভেড়ামারা উপজেলায় ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু অবস্থিত।
প্রশ্ন ৫: কুষ্টিয়ার কোন উপজেলাটি ভারতের সীমান্তবর্তী?
উত্তর: দৌলতপুর উপজেলা সরাসরি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চল।
মন্তব্য