শনিবার, ১ই আগস্ট ২০২৬, ১৭শে শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১ই আগস্ট ২০২৬, ১৭শে শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা  গোরস্থানে চাঁদা বকেয়ার অভিযোগে দাফনে বাধা ভেড়ামারায় ধানের গোলা থেকে ইসক্যাফ সিরাপ উদ্ধার কুষ্টিয়ার যাত্রাপালার কিংবদন্তি খলনায়ক তকরিম খাঁন আর নেই দৌলতপুরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক দৌলতপুরে মাদকসহ চারজন আটক কুষ্টিয়ায় নদী থেকে মরদেহ উদ্ধার  পাঁচ দশকেও পাকা হয়নি ভবানীপুরের কাঁচা সড়ক কুষ্টিয়ায় মরুর প্রাণীতে রাকিবুলের লাখ টাকার স্বপ্ন দৌলতপুরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরি  দৌলতপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা 

কুষ্টিয়া জেলা

কুষ্টিয়া জেলার ইতিহাস

খবরওয়ালা ডেস্ক

প্রকাশ: ৭ই জানুয়ারি ২০১৫, ৩:১০ পিএম

কুষ্টিয়া জেলার ইতিহাস

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এক গৌরবোজ্জ্বল ও ঐতিহাসিক জনপদ হলো কুষ্টিয়া জেলা। পদ্মা, গড়াই, কালীগঙ্গা এবং মাথাভাঙা নদীর পলিমাধুর্যপূর্ণ অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই অঞ্চলটি প্রাচীনকাল থেকেই মানব সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। কুষ্টিয়া কোনো প্রাগৈতিহাসিক বা প্রাচীন নগরী না হলেও, ব্রিটিশ আমলের ঔপনিবেশিক বাণিজ্য, নদীবন্দর কেন্দ্রিক নগরায়ন, রেল যোগাযোগের সূচনা এবং পরবর্তীতে শিল্প বিপ্লবের কল্যাণে এটি দ্রুত একটি প্রধান অঞ্চলে রূপ নেয়। অবিভক্ত ভারতের নদীয়া জেলার অংশ থেকে শুরু করে বর্তমান স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ পর্যন্ত কুষ্টিয়ার ইতিহাসের রয়েছে এক সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য পটভূমি।

কুষ্টিয়া জেলার আয়তন কত
টেগর লজ – কুষ্টিয়া-জেলা

Table of Contents

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় প্রেক্ষাপট: নদীমাতৃক জনপদের উন্মেষ

কুষ্টিয়া অঞ্চলের আদি ইতিহাস মূলত নদীবন্দরের বিকাশ এবং নদীকেন্দ্রিক মানববসতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাচীনকালে এই অঞ্চলটি গঙ্গা ও তার শাখা নদীগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে বারবার রূপান্তরিত হয়েছে। সেন আমল, পাল আমল এবং পরবর্তীতে সুলতানি ও মুঘল আমলে এই অঞ্চলটি নদীয়া এবং পাবনা অঞ্চলের বৃহত্তর প্রশাসনিক কাঠামোর সাথে যুক্ত ছিল।

কুষ্টিয়া শহরের গোড়াপত্তন বা সুনির্দিষ্ট নগরায়নের প্রাচীন কোনো সুদীর্ঘ ইতিহাস না থাকলেও, মুঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে এই অঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর স্থাপিত হয়। সম্রাট শাহজাহানের আমলেই গঙ্গার অববাহিকায় নৌপথের নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে এই বন্দরটি গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থে এই নদীবন্দরটিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। নদীপথের এই সুগম যোগাযোগের কারণে ব্রিটিশ ও দেশীয় বণিকদের নজর কাড়ে এই জনপদ।

কোম্পানি আমল ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন: নগরায়ন ও নীলচাষের ইতিহাস

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন আমলে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া অঞ্চলটি প্রথমে যশোর জেলার অধীনে ন্যস্ত করা হয়। সে সময় বর্তমান কুষ্টিয়া ও এর আশেপাশের এলাকা প্রশাসনিকভাবে যশোর কালেক্টরেটের আওতাধীন ছিল।

হ্যামিলটন’স গেজেট (Hamilton’s Gazetteer)-এ প্রথম কুষ্টিয়া শহরের সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও উল্লেখ পাওয়া যায়। গেজেটের বিবরণ অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে কুষ্টিয়া একটি উঠতি নদীভিত্তিক জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করছিল। তবে এই অঞ্চলের প্রকৃত নগরায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয় ব্রিটিশ নীলকরদের আগমনের মধ্য দিয়ে। উনবিংশ শতাব্দীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় কুষ্টিয়ার উর্বর মাটিতে নীলচাষ শুরু হয়। কুষ্টিয়া ও এর আশপাশের অঞ্চলে একাধিক নীলকুঠি স্থাপিত হয় এবং নীলকরদের বাণিজ্যিক তৎপরতা ও শোষণের বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। নীলচাষ ও নীলকরদের এই বাণিজ্যিক বসতি স্থাপনই মূলত কুষ্টিয়াকে একটি গ্রাম থেকে মফস্বল শহরে রূপান্তরিত করার প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি করেছিল।

যোগাযোগের বিপ্লব: ১৮৬০ সালের রেললাইন ও শিল্পায়নের সূচনা

কুষ্টিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট বা মোড় পরিবর্তন ঘটে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়নের মাধ্যমে। ১৮৬০ সালে কলকাতার (তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী) সাথে কুষ্টিয়ার সরাসরি রেললাইন স্থাপিত হয়। এই রেল যোগাযোগ চালুর ফলে কুষ্টিয়া রাতারাতি ব্রিটিশ বাংলার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও শিল্প ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়।

রেলপথ চালুর ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত পণ্য রাজধানী ও সমুদ্রবন্দরে পাঠানো অত্যন্ত সহজ হয়ে যায়। তৎকালীন ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা এই অঞ্চলটিকে শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য একটি আদর্শ ও কৌশলগত স্থান হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেন। এর ফলশ্রুতিতে কুষ্টিয়ায় একের পর এক ভারী ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে থাকে, যা সমগ্র পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক দৃশ্যপটকে পাল্টে দেয়।

কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ:

  • যজ্ঞেশ্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (১৮৯৬): ব্রিটিশ আমলে স্থানীয় প্রকৌশল ও লোহাভিত্তিক কাজের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়।
  • রেণউইক, যজ্ঞেশ্বর এণ্ড কোং (১৯০৪): কুষ্টিয়ার শিল্প ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক। ভারী যন্ত্রপাতি ও কাস্ট আয়রনের কাজের জন্য এটি উপমহাদেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল।
  • মোহিনী মিলস (১৯১৯): বিশিষ্ট শিল্পপতি মোহিনী মোহন চক্রবর্তীর উদ্যোগে ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘মোহিনী মিলস’ ছিল তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার অন্যতম বৃহৎ টেক্সটাইল বা সুতা ও কাপড়ের কল। এই মিলের উৎপাদিত কাপড় দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছিল।

প্রশাসনিক বিবর্তন: পৌরসভা প্রতিষ্ঠা ও মহকুমা হিসেবে আত্মপ্রকাশ

শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের দ্রুত প্রসারের ফলে কুষ্টিয়ায় জনবহুল এলাকা গড়ে ওঠে এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। ফলশ্রুতিতে ১৮৬৯ সালে কুষ্টিয়ায় একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এই অঞ্চলের আধুনিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার প্রথম সোপান।

দীর্ঘকাল ধরে কুষ্টিয়া অবিভক্ত ভারতের নদীয়া জেলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচালিত হতো। তবে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন এবং পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়ায় কুষ্টিয়া অঞ্চলটি কখনো নদীয়া জেলার মহকুমা, আবার কখনো পাবনা জেলার মহকুমা ও থানা হিসেবে রাজশাহী বিভাগের অধীনে অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন প্রশাসনিক সীমানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়া তার নিজস্ব ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক স্বকীয়তা অর্জন করতে থাকে।

বাঙালি জাতিসত্তা এবং কুষ্টিয়ার গৌরবময় ঐতিহাসিক প্রথমসমূহ

কুষ্টিয়া জেলা কেবল শিল্প বা বাণিজ্যের জন্যই পরিচিত নয়, বরং শিক্ষা, যোগাযোগ এবং সামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও এই জেলাটি বাংলার ইতিহাসে বেশ কিছু গৌরবময় ‘প্রথম’-এর অধিকারী:

  • বাংলাদেশের সর্বপ্রথম রেলস্টেশন (জগতি রেলওয়ে স্টেশন): ১৮৬২ সালের (মতান্তরে ১৮৬০ সালের রেললাইন সংযোগের ধারাবাহিকতায়) মাঝামাঝি সময়ে চালু হওয়া জগতি রেলওয়ে স্টেশন হলো বর্তমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে নির্মিত সর্বপ্রথম রেলওয়ে স্টেশন। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতি নামক স্থানে এই স্টেশনটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে এ দেশে রেলযুগের সূচনা হয়েছিল।
  • বাংলাদেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয় (কুমারখালী পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়): নারী শিক্ষার প্রসারে কুষ্টিয়ার অবদান ঐতিহাসিক। কুমারখালী উপজেলায় অবস্থিত কুমারখালী পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত সর্বপ্রথম বালিকা বিদ্যালয়, যা নারী জাগরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।

১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং স্বাধীন কুষ্টিয়া জেলার অভ্যুদয়

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের অবসান ঘটে এবং দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বিভক্ত হয়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় কুষ্টিয়া তার পূর্বের নদীয়া জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) অন্তর্ভুক্ত হয় এবং একটি স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

স্বাধীনতার প্রাক্কালে এবং দেশভাগের অব্যবহিত পরে কুষ্টিয়া জেলার প্রশাসনিক পরিধি বেশ বিস্তৃত ছিল। নতুন গঠিত কুষ্টিয়া জেলার অধীনে মূলত তিনটি প্রধান মহকুমা ছিল:

  • কুষ্টিয়া সদর মহকুমা
  • চুয়াডাঙ্গা মহকুমা
  • মেহেরপুর মহকুমা

পরবর্তীতে প্রশাসনিক decentralization বা বিকেন্দ্রীকরণের প্রক্রিয়ায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর আলাদা স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে উন্নীত হলে কুষ্টিয়া জেলার বর্তমান ভৌগোলিক সীমানা নির্ধারিত হয়।

১৯৫০-এর দশক: উন্নয়ন ও গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) প্রকল্পের সদর দপ্তর স্থাপন

দেশভাগের পর নবগঠিত কুষ্টিয়া শহরের উন্নয়নে বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তৎকালীন এস.ডি.ও (Sub-Divisional Officer) মৌলভি আব্দুল বারী বিশ্বাস-কে প্রধান করে এবং তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১৯৫৪ সালে ঐতিহাসিক গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প (G-K Project)-এর প্রধান কার্যালয় বা সদর দপ্তর কুষ্টিয়ায় স্থাপন করা হয়।

জি-কে প্রকল্পের মতো বিশাল সেচ ও উন্নয়ন প্রকল্প কুষ্টিয়ায় স্থাপিত হওয়ার ফলে এই অঞ্চলের কৃষিব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটে। এর পাশাপাশি কুষ্টিয়ায় আরও বেশ কিছু সরকারি দপ্তর, প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং প্রশাসনিক ভবন স্থাপিত হওয়ার ফলে শহরটিতে পুনরায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন ধারা সূচিত হয়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার ভূমিকা

কুষ্টিয়ার ইতিহাস কেবল শিল্প ও সংস্কৃতির ইতিহাস নয়, এটি বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও বীরত্বের এক রক্তাক্ত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ঢাকাসহ সারা দেশে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করার পর পরই কুষ্টিয়ার মুক্তিকামী মানুষ সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

  • প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ: ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ কুষ্টিয়ায় বাঙালি সেনা সদস্য, পুলিশ, আনসার এবং সাধারণ ছাত্র-জনতা একত্রিত হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনা করেন। এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সুসংহত ও বড় ধরনের সফল সশস্ত্র প্রতিরোধ, যা সারা দেশের মুক্তিকামী মানুষকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
  • মহান মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার বহু বীর সন্তান ও সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ ও গণকবর নির্মিত হয়েছে।

মূল বিষয়গুলো একনজরে

  • কুষ্টিয়া কোনো প্রাচীন ঐতিহাসিক নগরী নয়; মুঘল সম্রাট শাহজাহানের আমলে এখানে একটি নদীবন্দর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এর সূচনা ঘটে।
  • ব্রিটিশ কোম্পানি আমলে কুষ্টিয়া প্রথমে যশোর জেলার অধীনে ছিল এবং পরবর্তীতে নদীয়া ও পাবনা জেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত হয়।
  • ১৮৬০ সালে কলকাতার সাথে সরাসরি রেললাইন স্থাপন এবং ১৮৬৯ সালে পৌরসভা গঠনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ায় আধুনিক নগরায়ন শুরু হয়।
  • জগতি রেলওয়ে স্টেশন (বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন) এবং কুমারখালী পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (বাংলাদেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়) কুষ্টিয়া জেলায় অবস্থিত।
  • ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মোহিনী মিলস এবং রেণউইক যজ্ঞেশ্বর কোম্পানির কল্যাণে কুষ্টিয়া একসময় বাংলার অন্যতম শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল।
  • ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর কুষ্টিয়া পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং ১৯৫৪ সালে এখানে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) প্রকল্পের সদর দপ্তর স্থাপিত হয়।

 

কুষ্টিয়া জেলার আয়তন কত
পাকশী রেল সেতু – কুষ্টিয়া জেলা

 

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

প্রশ্ন ১: কুষ্টিয়া শহরটি প্রথম কোন ঐতিহাসিক দলিলে বা গেজেটে উল্লেখ করা হয়?

উত্তর: হ্যামিলটন’স গেজেট (Hamilton’s Gazetteer)-এ সর্বপ্রথম কুষ্টিয়া শহরের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ২: কুষ্টিয়ার প্রথম রেললাইন কবে এবং কার সাথে স্থাপিত হয়?

উত্তর: ১৮৬০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতার সাথে কুষ্টিয়ার সরাসরি রেললাইন স্থাপিত হয়।

প্রশ্ন ৩: বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশনটি কোথায় অবস্থিত?

উত্তর: বাংলাদেশের প্রথম রেলওয়ে স্টেশন হলো কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জগতি রেলওয়ে স্টেশন।

প্রশ্ন ৪: ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর কুষ্টিয়ার প্রাথমিক মহকুমাগুলো কী কী ছিল?

উত্তর: ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর কুষ্টিয়া জেলার অধীনে কুষ্টিয়া সদর, চুয়াডাঙ্গা এবং মেহেরপুর—এই তিনটি প্রধান মহকুমা ছিল।

প্রশ্ন ৫: কুষ্টিয়ায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) প্রকল্পের সদর দপ্তর কবে স্থাপিত হয়?

উত্তর: এস.ডি.ও মৌলভি আব্দুল বারী বিশ্বাসের নেতৃত্বে ১৯৫৪ সালে কুষ্টিয়ায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্পের সদর দপ্তর স্থাপিত হয়।

মন্তব্য