বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার প্রান্তিক খামারিরা পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এবারের কোরবানির বাজারে আলোড়ন তুলেছে সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের কমলাপুর লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রায় ২৬ মণ ওজনের ‘রাজাবাবু’। যার দাম হাঁকা হচ্ছে ৮ লাখ টাকা। এদিকে বিশাল আকারের ‘রাজাবাবু’কে দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে খামারে আসছে দর্শনার্থীরা। জানা গেছে, তার নিজ বাড়ির গাভী গরুর বাছুর এ গরুটিকে নিজ সন্তানের মতো লালন পালন করছেন মো. মোতালেব হোসেন মন্ডল। ভালোবেসে গরুটির নাম দিয়েছিলেন ‘রাজাবাবু’।
গম, ছোলা, চালের গুড়া, আলু ও ঘাস খাইয়ে দেশিয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে গরুটি। মো. মোতালেব হোসেন মন্ডলের খামারে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২৬ মণ ওজনের গরুটির যত্ন নিচ্ছেন তার সহধর্মিনী। তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে গরুর খামার আমাদের এবং ৩ বছর এই গরু সখ করে লালন-পালন করছি। গরুকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়, কখনোই কোনো ওষুধ বা ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয়নি। গরুর খাওয়া বাবদ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, গরুটির ওজন ২৬ মণ, দাম ৮ লাখ টাকা। রাজাবাবুর মালিক মোতালেব হোসেন মন্ডল বলেন, এই খামানেরই থেকে রাজাবাবুর জন্ম। জন্মের পর থেকে তাকে আমি লালনপালন করছি। গরুটি খুবই শান্ত প্রকৃতির। এইজন্যই তার নাম রেখেছি রাজাবাবু। আমার নিজস্ব চাষ করা ঘাস, খড়, ভুসি খাইয়েছি।
বাইরের কোনো খাবার খাওয়াইনি। আমি অসুস্থ থাকার কারণে গরুটি এবার হাটে তুলতে পারছি না। যদি কেউ কিনতে চাই তাহলে আমার খামারে যোগাযোগে করলেই হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যাপারীরা এ পর্যন্ত রাজাবাবুর দাম ৬ লাখ টাকা বলেছেন। কিন্তু তিনি ৮ লাখ টাকায় গরুটি বেঁচতে চান। এই দুই দিনের মধ্যে যদি কাঙ্খিত দামে রাজাবাবু বিক্রি না হয় তাহলে শনিবার গাবতলীর যেতে হবে। মোতালেব হোসেনে বলেন, এবার যদি ভারত থেকে গরু না আসে তাহলে লাভবান হবেন খামারিরা। গো-খাদ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই যেন গরু আমদানি করা না হয়। এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলার প্রায় ১৯ হাজার খামারি তাদের খামারে প্রায় দুই লাখ গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন।
