বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বটতৈল ইউনিয়নের কবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এর সঙ্গে আশপাশের অটো রাইস মিল থেকে আসা দূষিত পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছর ধরে এমন দুর্ভোগ চলে আসলেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন বিদ্যালয়ের প্রায় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা। বিদ্যালয় মাঠ ঘুরে দেখা যায়, হালকা বৃষ্টির পরই মাঠের বিভিন্ন অংশে পানি জমে যায়।
পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানির সঙ্গে পাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দূষিত পানি মিলে মিশে দুর্গন্ধযুক্ত নর্দমার মতো পরিবেশ সৃষ্টি করছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঠ ব্যবহার, চলাচল এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। সম্প্রতি বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা।
এ সময় বিদ্যালয় মাঠের জলাবদ্ধতা ও নোংরা পরিবেশ দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশীদকে নির্দেশ দেন তিনি। এমপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শোনা যায়। তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার তারিখ হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং গত ১০ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নেওয়ার কথাও বলেন।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক স্থানীয় হওয়ায় বিদ্যালয়ে তার প্রভাব রয়েছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি যথাযথ ভূমিকা রাখছেন না বলেও অভিযোগ তাদের। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার তারিখ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দরখাস্ত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ বলেন, কবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে দিলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বিদ্যালয় মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পাশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য ও দূষিত পানি নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মুক্ত করতে দ্রুত পদক্ষেপ চান তারা।









