বিশেষ প্রতিনিধি ॥ “বৃক্ষ রোপণ করি, দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া হাট, মতিয়ারপুর এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয় ও কুষ্টিয়া জেলা সমবায় ইউনিয়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হারুন অর রশিদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি ও খুলনা বিভাগীয় পরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন মো. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা সমবায় কর্মকর্তা প্রভাস চন্দ্র বালা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জনাবা রূপালী খাতুন, কুষ্টিয়া জেলা সমবায় অফিসের উপসহকারী নিবন্ধক আনিসুর রহমান এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সাজিদ হাসান।
পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওলানা হোসাইন আহমেদ সিদ্দিকী। প্রধান অতিথি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, লাগানো গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি অন্যদেরও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন দেয়, পরিবেশকে শীতল রাখে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।” সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। একটি গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশের নিশ্চয়তা দিতে পারে। সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি বলেন, “প্রতিটি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগানোর মাধ্যমে সবুজায়ন বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রোপণ করা গাছ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” বিশেষ অতিথি কৃষিবিদ রূপালী খাতুন বলেন, “পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও বৃক্ষের গুরুত্ব অনেক। পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করলে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে পরিবার ও কৃষকের বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।” তিনি আরও বলেন, “বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে এলাকার মাটি ও পরিবেশের উপযোগী গাছ নির্বাচন করতে হবে।
সঠিক সময়ে চারা রোপণ, প্রয়োজনীয় সেচ, সার প্রয়োগ এবং নিয়মিত পরিচর্যা করলে রোপণ করা গাছ দ্রুত বেড়ে উঠবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যাবে।” অনুষ্ঠানে বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধিতে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের আহ্বান জানান। পরে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের হাত থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমবায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, মো. আমিনুল ইসলাম (নাঈম), সহ-সভাপতি, কুষ্টিয়া জেলা সমবায় ইউনিয়ন।









