কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় পানি উন্নয়নের বোর্ডের বালু রাতের আঁধারে গোপনে যাচ্ছে ইটভাটায়

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সরকারী নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে কুষ্টিয়ার জুগিয়াতে চলছে একাধিক অবৈধ ইটভাটা। ইট পোড়ানোর কাজে কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। আর গাছ কাটার ফলে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন মোতাবেক ইট পোড়ানোর কাজে কাঠ পোড়ানোর বিধি-নিষেধ থাকলেও তার তোয়াক্কা না করে করে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। আর এসব ঘটনা প্রকাশ্যে ঘটছে প্রশাসনের সামনে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে না অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করনে বা ইটভাটার চিমনি ভেঙে দিলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও ইটভাটা প্রস্তুত হয়ে যায়। এ দিকে শহরের পৌর এলাকা জুগিয়া গোপীনাথপুর ১৩ নং ওয়ার্ড সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংরক্ষিত বালু মহল থেকে অবৈধ পন্থায় বালু লোপাট করেছেন ইট ভাটা মালিকেরা। তাছাড়া অনুমতি না নিয়েই শত শত ট্রাক বোঝাই গাছ দিয়ে পোড়ানো হচ্ছে ইট। ভাটায় ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় বালি । কারণ বালি ছাড়া ইট তৈরি করা অসম্ভব। ৫ আসস্টের পর কুষ্টিয়ার প্রায় সকল বালি মহালে বালি উত্তোলন বন্ধ থাকলেও রাতের আঁধারে পানির উন্নয়ন বোর্ডের স্তুপ করা বালি ইটভাটার মালিকেরা বালি নিয়ে যাচ্ছেন অতি গোপনে।

আর এলাকাবাসীর মতে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই বালি নিচ্ছেন ইটভাটার মালিকেরা। যদিও এই বিষয়টি পুরো অস্বীকার করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার জুগিয়া মুকসেদপুর এলাকায় প্রায় চারটি ইটভাটা রয়েছে। যাদের কারো কাছে ইটভাটা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নেই। এমনকি ইটভাটার পরিচয় পর্যন্ত গোপন রাখেন এই খোকন। জানা যায়,  (কেএইচবি) ইটভাটা মালিক খোকন রাতের বেলায় স্কেভেটর দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংরক্ষিত বালির স্তুপ থেকে রাতের অন্ধকারে বালি এনে নিজের ভাটায় সংগ্রহ করছেন।

যার ভিডিও ইতিমধ্যে প্রতিবেদক সংগ্রহ করেছে। এ বিষয়ে (কেএইচবি) ইটভাটা মালিক খোকনকে ফোন করে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার আগের বছরের বালু ইটভাটাতে ছিলো। আপনি একটু ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে অপর মালিক জিল্লুকে ফোন করলে তিনি জানান, আমরা বালু খোকসা জিলাপীতলা থেকে বালু কিনে করে নিয়ে এসেছি এবং খড়ি পুড়ানোর বিষয় জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ের মুঠোফোনে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পার্থ প্রতিম শীল’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আপনি জানালেন আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) মো. রাশিদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে এই বিষয়ে আমরা তদন্ত করে মামলা করবো।

Tags :

Desk Reporter

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর