কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর শহর। তবে এই ঐতিহ্যবাহী শহরের আনাচে-কানাচে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা শতবছরের পুরোনো ভবনগুলো এখন সাধারণ মানুষের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পৌরসভা থেকে ভবনগুলো ভেঙে ফেলার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হলেও, দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে সামান্য ভূমিকম্প বা ঝড়-বৃষ্টিতেই বড় ধরনের বিপর্যয় ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিগত দিনের ক্ষত ও আতঙ্ক: ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনের ভয়াবহতার প্রমাণ মিলেছিল গত বছরের ১৩ জুলাই (২০২৫)।
ওই দিন পৌর শহরের সোনাবন্ধু সড়কের বুলবুল টেক্সটাইলের শোরুমের সামনে একটি শতবর্ষী পুরোনো পাকা দোকানঘরের ছাদের অংশবিশেষ আচমকা ধসে পড়ে। এতে কেনাকাটা করতে আসা এক মা ও তার শিশুসন্তান গুরুতর আহত হন। ভবনটি ছিল পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মৃত রহিম জোয়ার্দারের বংশধরদের। এই ঘটনার পর শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের দাবি জোরালো হয়। আশ্বাসের বাস্তবায়ন নেই, বাড়ছে বর্তমান ঝুঁকি: সে সময়কার দুর্ঘটনার পর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলাম স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণের জন্য মালিকদের ১৫ দিনের সময় দেওয়া হবে।
নির্দিষ্ট সময়ে তারা ব্যর্থ হলে পৌরসভা নিজ উদ্যোগে বিধি মোতাবেক সেগুলো ভেঙে দেবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সেই আলটিমেটামের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে ভবনগুলোর অবস্থা আরও জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দেয়াল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যেকোনো মুহূর্তে এগুলো ধসে পড়ে পথচারী বা ব্যবসায়ীদের ওপর পড়তে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের ঢিলেমি ও ভবন মালিকদের উদাসীনতার কারণেই আজ চরম ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ মানুষের জীবন।
প্রশাসনের বর্তমান বক্তব্য ও দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস: এই দীর্ঘমেয়াদি জনঝুঁকির বিষয়ে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার পূর্বে জানা ছিল না। তবে জননিরাপত্তার স্বার্থে কুমারখালী শহরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কুমারখালীর সচেতন মহল মনে করছেন, বড় কোনো লাশের মিছিল দেখার আগেই প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এসব ‘মৃত্যুকূপ’ চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো। অন্যথায় যেকোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে কোনো বড় ট্র্যাজেডি।









