কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন নগরের আলাউদ্দিন আহমেদ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, মঙ্গলবার রাতে এসব মালামাল ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের গুদামঘরে সংরক্ষিত প্রায় ১০ মণ পুরোনো রড ও একটি লোহার দরজা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের পূর্ব পাশে একটি টিনশেড গুদামঘর রয়েছে।
সেখানে কিছু ভাঙা বেঞ্চ ও পুরোনো রড পড়ে থাকলেও দরজার পাশে থাকা বেশ কিছু রড এবং একটি লোহার দরজা নেই। বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, মঙ্গলবার রাতে প্রধান শিক্ষক, নৈশ্যপ্রহরী ও একটি ভ্যান বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর প্রায় আধাঘণ্টার জন্য সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। পরে আবার ফুটেজে একটি ভ্যানে মালামাল নিয়ে বের হতে দেখা যায়। তবে চালকের পরিচয় স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিব দাবি করেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তিনি বিদ্যালয়ের গুদামঘরের সামনে প্রধান শিক্ষক, নৈশ্যপ্রহরী ও এক ভ্যানচালককে রড ভ্যানে তুলতে দেখেছেন।
তাঁর ভাষ্য, এর আগেও রাতের বেলায় বিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন পুরোনো মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রাহাত বলেন, ওই রাতে বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করতে গেলে প্রধান শিক্ষক তাঁদের কিছু সময়ের জন্য সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে তিনি ভ্যানে করে রড নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে দাবি করেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর অনুরোধ করা হলে বিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষক আমিনুর রহমান রোকন বলেন, প্রধান শিক্ষকের অনুমতি ছাড়া ফুটেজ দেখানো সম্ভব নয়। তার ভাষ্য, ঘটনার সময় কিছুক্ষণ সিসিটিভি বন্ধ ছিল। আগের ও পরের ফুটেজে কিছু দৃশ্য দেখা গেলেও সবকিছু স্পষ্ট নয়।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ের খোঁজখবর নিতে রাতে যান। সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নৈশ্যপ্রহরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। অভিযুক্ত নৈশ্যপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, তার স্বামী বাড়িতে নেই। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নাভিদ সারওয়ার বলেন, বিষয়টি নজরে এসেছে। তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









