মোশারফ হোসেন: আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতা ও প্রযুক্তির আগ্রাসনে যখন গ্রামবাংলার চিরায়ত লোকজ ঐতিহ্যগুলো একে একে হারিয়ে যেতে বসেছে, ঠিক তখনই নতুন প্রজন্মের সামনে আবহমান বাংলার শেকড়ের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে আয়োজন করা হলো এক মনোজ্ঞ ও ঐতিহ্যবাহী ‘লাঠিখেলা’।
কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ-এর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এবং বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকরের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হারিয়ে যেতে বসা এই লোকজ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
উৎসবমুখর পরিবেশ ও লাঠিয়ালদের কসরত:
গতকাল শনিবার (২ মার্চ) রাতে কুমারখালীর বাঁধ বাজার খেলার মাঠে এই বর্ণাঢ্য লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ঢাক-ঢোল আর কাঁসার ঘণ্টার তালে তালে মাঠে নামেন লাঠিয়ালরা। বাদ্যের জাদুকরী তাল আর লোকজ গানের সুরে সুরে লাঠিয়ালদের কসরত উপস্থিত দর্শকদের যেন কয়েক দশক অতীতের এক নস্টালজিক আবহে নিয়ে গিয়েছিল।
প্রতিপক্ষের লাঠির সজোর আঘাত থেকে নিপুণ দক্ষতায় নিজেকে রক্ষা করা এবং চোখের পলকে পাল্টা আঘাত হানার এই শ্বাসরুদ্ধকর কৌশল দেখতে শত শত মানুষ আনন্দে মেতে ওঠেন। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনকে ঘিরে বাঁধ বাজার এলাকায় এক অন্যরকম উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। হারিয়ে যাওয়া এই শেকড়ের সংস্কৃতি স্বচক্ষে উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে নানা বয়সী দর্শকরা মাঠে ছুটে আসেন।
এবারের লাঠিখেলায় অংশ নিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে ঐতিহ্যবাহী ‘ওস্তাদ শহিদুল ইসলামের দল’ এবং ‘আব্দুল রাজ্জাকের দল’।
মূল্যবোধ রক্ষায় সুফি ফারুকের বার্তা:
সমাজ থেকে অন্যায়, অপরাধ দূর করতে এবং হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা। অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপক, বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও সমাজসেবক সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বক্তব্যে লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আধুনিকতার নামে আমাদের তরুণ সমাজ আজ অনেকটাই শেকড়বিচ্ছিন্ন। বিপথগামী যুবসমাজের মাঝে বাড়তে থাকা মাদকাসক্তি এবং চরম মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে লাঠিখেলার মতো দেশজ সংস্কৃতির এমন আয়োজনই আগামীতে আমাদের পথ দেখাবে। এ ধরনের উৎসব তরুণদের সম্প্রীতির এক মজবুত বাঁধনে যুক্ত করে।”
গ্রামবাংলার এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এবং আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দেশজ খেলাধুলার নিয়মিত আয়োজন ও এর জন্য সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার জোর দাবি জানান তিনি।
অতিথিবৃন্দ:
ঐতিহ্যবাহী এই সংবর্ধনা ও লাঠিখেলা উপভোগ করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ।
এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর, বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ ডিগ্রী কলেজের সভাপতি জান্নাতুন নাহার, খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এবং প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আলতাফ মাহমুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতির এমন চমৎকার আয়োজন সমাজে সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অনন্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন উপস্থিত সুধীজন।









