কুমারখালীতে কুরবানির মাংস নিয়ে বিরোধ বসতবাড়িতে হামলা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে কুরবানির মাংস নিয়ে বিরোধ বসতবাড়িতে হামলা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ৩, ২০২৬

কুষ্টিয়ার কুমারখালী  উপজেলার দয়রামপুর গ্রামে জমিজমা ও কুরবানির মাংস ভাগাভাগির পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এক নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে।
দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল সন্ত্রাসী একটি বসতবাড়িতে ঢুকে নারী-শিশুসহ একই পরিবারের বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে। হামলায় ফুসফুস কেটে যাওয়া আজিজুল শেখ (৩৫) নামের এক যুবক বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (ICU) লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
​গত ১ জুন (সোমবার) রাত আনুমানিক ১০:৩০ ঘটিকায় কুমারখালীর থানার দয়রামপুর গ্রামে এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে ফজল শেখ বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
​মামলার আসামিরা হলেন— দয়রামপুর গ্রামের মৃত হারুনের ছেলে সাগর (২৭), কল্যাণপুর গ্রামের রেজেক আলীর ছেলে আরিফ (৪০), দয়রামপুর গ্রামের মোহনের ছেলে লতিফ (৫০), লতিফের ছেলে বিপুল (৩০) এবং লতিফের স্ত্রী ববিতা (৪২)।
​এজাহার সূত্রে আরো জানা যায়, আসামিদের সঙ্গে ফজল শেখের পরিবারের জমিজমা নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল। এরই জের ধরে গত ২৮ মে পবিত্র ঈদ-উল-আযহার দিন সমাজের কুরবানির মাংস ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে ফজল শেখ ও তার ছেলে আজিজুল শেখের সাথে আসামিদের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মনোমালিন্য হয়। ওই সময় আসামিরা তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।
​পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১ জুন রাতে আসামিরা চাপাতি, ডেগার, চাইনিজ কুড়াল, হাসুয়া, লোহার রড ও লাঠিসোঁটাসহ বেআইনি জনতাবদ্ধে ফজল শেখের বসতবাড়িতে চড়াও হয়। তারা আজিজুলকে ঘর থেকে ডেকে বের করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। আজিজুল এর প্রতিবাদ করলে ২ নং আসামি আরিফের হুকুমে ১ নং আসামি সাগর চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আজিজুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারে। আজিজুল প্রাণভয়ে পিছিয়ে গেলে কোপটি তার বুকের বাম পাশে লাগে। এতে তার বুকের হাড় ও মাংস কেটে ৪-৫ ইঞ্চি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়।
 আজিজুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে আবারও কোপানো হয়, যা ঠেকাতে গিয়ে তার ডান হাতের কবজি গুরুতর জখম হয় এবং সেখানে ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছে।
আজিজুলের চিৎকারে তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে রহমত ঠেকাতে এলে লতিফ নামের অপর আসামি হাসুয়া দিয়ে কোপ মেরে তার ডান হাতের শাহাদত আঙুল কেটে জখম করে। এছাড়া বাদী ফজল শেখকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে গলার ওপর পা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়।
​বাড়ির নারীরা এগিয়ে এলে ৮ বছরের শিশু নাইমা খাতুনকে চুল ধরে চড়-থাপ্পড় ও তলপেটে লাথি মারা হয় এবং তার গলা থেকে ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় আসামি বিপুল। এছাড়া আজিজুলের স্ত্রী আশাকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি করা হয় এবং ফজল শেখের স্ত্রী রেজিয়া খাতুনকে পিটিয়ে নীল ফোলা জখম করা হয়।
​হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে কোরবানি উপলক্ষে গরু বিক্রির নগদ ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকা চুরি করে এবং ঘরের দরজা-জানালা, শোকেস, ড্রেসিং টেবিল ভাঙচুর করে আরও প্রায় ১,৫০,০০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
​প্রতিবেশীরা ছুটে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আজিজুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে আজিজুল ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন।
​এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জামাল উদ্দিন জানায়, থানাতে এজাহার জমা হয়েছে যার  প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং  মামলার প্রস্তুতি চলছে এছাড়াও যারা এই হামলার সাথে জড়িত তাদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।