খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই মে ২০২৬, ২:৮ এএম

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালীর তারাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আম কুড়াতে গিয়ে বলৎকারের শিকার হয়েছে। গত রোববার সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা সদকী ইউনিয়নের গড়েরমাঠ এলাকার একটি আমবাগানে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার শিকার শিশু ওই এলাকার এক ভ্যানচালকের ছেলে। আর অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. ওয়াহেদ আলী (৫৫)। তিনি উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের মৃত রজব আলী বিশ্বাসের ছেলে।
এছাড়াও উক্ত আমবাগানের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত আছেন। অপরদিকে, ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কানাঘুষো শুরু হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবার আইনের আশ্রয় না নিলে সমালোচনা গড়াই ফেসবুকে। সোমবার সন্ধায় এলাকায় ঘটনার ধামাচাপা দিতে বসবে সালিশ বৈঠক। সালিশের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্ত ব্যক্তি। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রোববার সকাল ১০ টার চতুর্থ শ্রেণির ওই শিশু মাঠে ছাগল রাখতে যায়। এরপর সে আমবাগানে আম কুড়াতে গেলে কেয়ারটেকার ওয়াহেদ তাকে জোরপূর্বক প্যান্ট খুলে বলৎকার করে।
এরপর শিশুটি বাড়িতে এসে তার মাকে ঘটনাটি খুলে বললে স্থানীয়রা টের পান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ গতকাল সন্ধায় সালিশে বিষয়টি মিটমাট করার আশ্বাস দিলে বিষয়টি আর থানা পুলিশে গড়াইনি। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় শিশুটির বাড়ির গেট ভিতর থেকে আটকানো। ডাকাডাকির পর ভুক্তভোগী শিশু গেট খুলে দেয়। তবে প্রতিবেদকের সঙ্গে শিশুটিকে কথা বলতে দেননি। তবে এসময় শিশুটির মা বলেন, ‘ আমরা এখন এসব নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছিনা। মাতব্বররা সন্ধায় সালিশ ডাকেছে। আপনারা সেখানে আসেন। তখনই বিস্তারিত জানতে পারবেন।’
এরপর সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গড়েরমাঠ এলাকায় একটি আমবাগানে পাহাড়া দিচ্ছেন অভিযুক্ত ওয়াহেদ আলী। জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘ও’ ( শিশুটি) আম কুড়াতে আইছিল। তখন আমি ওকে জড়িয় ধরি। এরপর ও নিজেই প্যান্ট খুলে। সেসময় আমি এতুটুুকু করিছিলাম। বেশিকিছু করিনি। আপনেরা আর ঝামেলা করবেন না। আজ (গতকাল) সন্ধায় সালিশ আছে। সমাধান হয়ে যাবে।’
কেয়ারটেকার স্ত্রী বলেন, ‘ আমার স্বামীর বুদ্ধি কম। কিসের ভিতর কি করে তা বুঝতে পারেনা। আপনারা আর ফেসবুকে দিবেননা। আজ সালিশ আছে। সব ঠিক হয়ে যাবিনি।’ এধরনের ঘটনার সালিশ বসানোর কোনো সুযোগ নেই বলে ফোনে জানিয়েছেন কুমারখালী থানার পরিদর্শক ( তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। এখনই পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য