কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

আইফোন চুরির সাজানো অপবাদ: প্রেমঘটিত জেরে তরুণকে খুঁটিতে বেঁধে মধ্যযুগীয় বর্বরতা 

ভেড়ামারা প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ৩ বছরের প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক তরুণকে আইফোন চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পিলারের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করার খবর পাওয়া গেছে। নির্যাতনের একপর্যায়ে প্রকাশ্য বাজারে ওই তরুণের মাথার চুল কেটে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়রামপুর বাজারে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার তরুণের নাম রুহুল আমিন (১৮)।

তিনি ধরমপুর ইউনিয়নের সরূপের ঘোপ ২ নং ওয়ার্ডের হাজাম রশিদের ছেলে। গুরুতর হাড়ভাঙ্গা রক্তাত্ত্ব জখম অবস্থায় বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামলায় তরুণের একটি পা ভেঙে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুহুল আমিনের সাথে দৌলতপুর জয়রামপুর এলাকার নিপন মোল্লার মেয়ে রোজা নামের এক তরুণীর দীর্ঘ ৩ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। কিন্তু রোজার পরিবার, বিশেষ করে তার ভাই মনোজ মোল্লা এই সম্পর্ক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না।

ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে রুহুল আমিন ও তার বন্ধুদের সাথে কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে আবেদের ঘাট পদ্মা পাড়ে বেড়ানোর জন্য পথিমধ্যে জয়রামপুর বাজারে গতিরোধ করে। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মনোজ মোল্লা ও তার সহযোগীরা নতুন দুটি সুজুকি মোটরসাইকেলে এসে রুহুলের পথরোধ করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা হঠাৎ করেই রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে একটি ‘আইফোন’ চুরির সাজানো অপবাদ দিয়ে শোরগোল তোলে। এরপর তাকে টেনেহিঁচড়ে বাজারের একটি দোকানের খুঁটির (পিলার) সাথে বেঁধে ফেলে। সেখানে তাকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি বেধড়ক মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে জনসম্মুখে জোরপূর্বক তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং কয়েকজন তরুণ এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের সময় রুহুলের চোখ উপড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয় এবং তার সাথে থাকা ৩টি মানিব্যাগ ও ৩টি মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় রুহুল আমিনকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, চুরির বিষয়টি ছিল সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। মূলত ৩ বছরের দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের প্রতি ক্ষোভ ও প্রতিহিংসা থেকেই মেয়ের ভাই মনোজ মোল্লা ও তার সহযোগীরা এই পরিকল্পিত হামলা ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালিয়েছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, “খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর