কবি নজরুলের রচনা আজও মানুষকে সাহস ও প্রেরণা জোগায়: ডিসি তৌহিদ বিন-হাসান - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কবি নজরুলের রচনা আজও মানুষকে সাহস ও প্রেরণা জোগায়:  ডিসি তৌহিদ বিন-হাসান

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৬, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত কবির জীবন ও সাহিত্যকে স্মরণ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় আলোচনা সভা,  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উদযাপনে, গতকাল সোমবার (২৫ মে) বিকেল ৪টার সময় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মিজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান। তিনি বলেন, কবি নজরুলের রচনা আজও অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মানুষকে সাহস ও প্রেরণা জোগায়। তাঁর সাহিত্য, গান ও দর্শন নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সবাইকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার), জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।  জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। এছাড়া জেলা প্রশাসন, শিল্পকলা একাডেমির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ সুশীল সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা কবি নজরুলের সাহিত্যকর্ম, সাম্য ও মানবতার বাণী, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে তাঁর অনন্য অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এসময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সত্য, ন্যায় এবং মানবতার কবি। তাঁর সাহসী উচ্চারণ আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে ন্যায়ের পথে চলতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে। বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। নজরুলের আদর্শ আমাদের সেই দায়িত্ব পালনে নৈতিক শক্তি জোগায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, কবি নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তিনি যেমন ইসলামী গান লিখেছেন, তেমনি শ্যামাসঙ্গীত ও ভক্তিগীতিও রচনা করেছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, বাংলার সংস্কৃতি সকলের, এই দেশ সকল মানুষের। সে লক্ষ্যে আমাদের একটাই শ্লোগান, সবার আগে বাংলাদেশ”। আমরা বিশ্বাস রাখি, আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সব সময় ন্যায়ের পক্ষে, গণতন্ত্র, মানবিক মর্যাদা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। আপনারা দেখেছেন দেশের উন্নয়নে দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, কবি নজরুল বলেছিলেন- “গাহি সাম্যের গান” মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান।” এই দর্শনই ছিল তাঁর জীবনের মূল কথা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর সাহিত্য ও সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু। বিগত সময়ে বাংলাদেশে যখন গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো, তখন নজরুলের চেতনা আমাদের নতুন করে সাহস জুগিয়েছিলো। কবি নজরুল অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি, তেমনি ভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি কখনো কারো কাছে মাথানত করেনি। আমাদের দেশমাতা সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া একজন আপোষহীন নেত্রী ছিলেন। আমরা আশাকরি বর্তমানে তারই সুযোগ্য পুত্র দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি উন্নত রাষ্ট্রে রুপান্তরিত হবে। নজরুলের সাম্য ও স্বাধীনতার আদর্শ আগামী দিনে পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে।

প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, নজরুল শুধু কবি ছিলেন না’ তিনি ছিলেন অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তাঁর কবিতা ও গান আমাদের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তিনি আরো বলেন, কবি নজরুল ছিলেন সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের কণ্ঠস্বর। তাঁর লেখনী অন্যায়, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের হৃদয়ে জাগিয়েছে প্রতিবাদের আগুন। “বিদ্রোহী” কবিতার মাধ্যমে তিনি যে চেতনা সৃষ্টি করেছিলেন, তা আজও আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তায় প্রাসঙ্গিক।