পুলক সরকার ॥ নির্মাণের প্রায় ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো কয়েদি বা বন্দি দেখেনি কুষ্টিয়ার খোকসা উপকারাগার। বন্দিদের জায়গায় রয়েছে জ্বালানি কাঠ, হাঁস-মুরগি আর গরু-ছাগল। আশেপাশের জমিও হয়েছে বেদখল। কারাগারটি কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের খোকসা পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। বর্তমানে কারাগারটি নিয়ন্ত্রণ করছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়। জেলা সমাজসেবা অফিসের তথ্যমতে, উপকারাগারটি তিন একর জায়গায় উপর নির্মিত। কারাগারটিতে রয়েছে, একটি প্রবেশ পথ, দুইটি কয়েদি রাখার হলরুম, দুইটি সাক্ষাৎকার কক্ষ, একটি স্টোররুম, দুই কক্ষ বিশিষ্ট অফিস রুম ও তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি কোয়াটার।
৪৪ বছর ধরে অব্যাহত থাকায় লোহায় পরেছে মরিচা, খুলে পরেছে পলেস্তার। সময়ের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে দরজা জানালার কাঠ। তবে কারগারটিকে কিশোর অপরাধ দমনে কিশোর শোধানাগার বা উন্নয়ন কেন্দ্রে রূপান্তিত করার গুঞ্জন থাকলেও কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি অদ্যাবধি। উপকারাগারটি সংস্কার করে সমাজসেবা মূলক যেকোনো কাজে ব্যবহারের দাবি এলাকাবাসীর। সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, কারাগারের কোয়াটারটিতে একজন সপরিবারে বসবাস করছেন। বসবাসকারী কুমারখালী সমাজসেবা অফিসে কর্মরত। হাঁস, মুরগি, গরু আর ছাগল পালনের খামার হিসেবে তিনি কারাগারটি ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় আদিত্য অনিক নাজমুল বলেন, ‘আজ পর্যন্ত উপ-কারাগারটিতে কোন কার্যক্রম দেখিনি।’ আক্কাস আলী বলেন, সরকার যদি পদক্ষেপ নিয়ে কারাগারটি পুনরায় মেরামত করে উন্নয়নমূলক কোনো কাজে ব্যবহার করতো তাহলে ভালো হতো। খোকসা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, ‘বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছি।’ এবিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুল লতিফ শেখ জানান, এটা আন্ত:মন্ত্রনালয়ের বিষয়। তবে উপকারাগারটি কিশোর শোধনাগার বা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে সরকার বরাবর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
