ইবি প্রতিনিধি ॥ প্রাণনাশের হুমকিতে আছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের ভয়াবহ র্যাগিংয়ের শিকার হওয়া ফুলপুরী খাতুন ও তার পরিবার। একইসাথে শারীরিকভাবে হেনস্তা, তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পারিবারিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তিনি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্থানীয় চিহ্নিত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন। সেখানে নিজেদের নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো ধরনের সুরাহা মিলছে না বলেও অভিযোগ তার। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘রাতে ঘুমাতে পারি না, বাড়ি এসে থাকতে পারি না কোনো ভাই বোনই। সন্ত্রাসীরা রাত দিন নাই যখন তখন বাড়িতে এসে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। ৫ বছর ধরে বাড়ির জায়গা নিয়ে ঝামেলা করে আমাদের বাড়ির সামনের সব জায়গা দখল করে নিয়েছে। আজ কাটাতার দিয়ে আরও দখল করে নিতে আসছে। রাতে সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে আব্বুকে খুঁজতেছিল। মেরে ফেলবো, হাত-পা কেটে ঝুলিয়ে রাখবো যেখানেই পায়।
আব্বুকে পায় নাই, আম্মুর উপরে গরম দেখায়ে গেছে, এমন কি ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিছে। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে এলাকায় সালিশির মাধ্যমে সমাধানেও কেউ আগায় না। ৫ বছর ধরে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা শান্তিতে থাকতে দেয় নাই, চেয়ারম্যান-মেম্বার সবাই মিলে আমাদের জিম্মি করে রাখছে। কথায় কথায় ছেলে মেয়েকে মেরে ফেলার, তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়। আমাদের উপর জুলুম করে আমাদের নামেই মিথ্যা কেস দিলেও কোর্ট খারিজ করে দিছে। আমরা কোর্ট থেকে জমির সার্বিক রায় পেয়ে এসেও সন্ত্রাসী দিয়ে আমাদের সবকিছু দখল করে নিয়ে আমাদের ক্ষতি করতে উঠে পড়ে লেগেছে এলাকার মেম্বার।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আওয়ামী আমলে কেস করতে গিয়েও লাভ হয় নাই। এখন তো নতুন সরকার, এখনও কি সন্ত্রাসী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হব? আমরা আর কতোদিন এমন নির্যাতনের শিকার হবো?
পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলা একদন্ত ইউনিয়ন আমাদের গ্রাম শিবপুরসহ আশেপাশের গ্রামে এতো এতো সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ, এদের জন্য সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মান নষ্ট হয়। এগুলোর কি কোনো প্রতিকার হবে না? আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? বাড়িতে সন্ত্রাসীরা মারতে আসছিল ধারালো অস্ত্র দিয়ে। সন্ত্রাসীরা কেমন হুমকি দিয়ে গেছে তার প্রায় এক মিনিটের একটা অডিও আছে। এরআগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের ভাই এসে বিনা কারণে গুন্ডামি করে মারছে। যে জমি দখল করে আছে সেই মারায়ছে ভাড়া করে এনে। সেসময় আমাদের বাড়ির ২টা স্মার্টফোন কেড়ে নিয়ে নষ্ট করে দিলেও আমরা কোনো বিচার পায়নি। কেউ বিচার করতেও আসে না, বলে সন্ত্রাসীরা যেতে নিষেধ করছে। নতুন সরকারের আমলেও কি আমরা সন্ত্রাসী দ্বারা নির্যাতনের শিকার হবো? আমাদের পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে সেই দায় সরকারের।’
ফুলপরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার বাবা আতাউর রহমান ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্য। আওয়ামী আমলে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় আওয়ামীলীগের সমর্থকদের হুমকিতে ছিলেন। এছাড়া বর্তমানে আতাউর রহমানের পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে তারই মামাতো বোন নুর জাহান আক্তার নুপুরের। নুর জাহান স্থানীয় প্রভাবশালী টিপু বিশ্বাসকে দিয়ে আতাউরের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন। বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের নেতাদের সঙ্গে নুর জাহানের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও সেসব নেতা এখন জেলে থাকায় নুর জাহান বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় প্রভাব বিস্তার করছেন বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে ফুলপুরী বলেন, আমার পরিবারের সবার জীবন হুমকিতে আছে। গতকাল অস্ত্র নিয়ে আমাদেরকে হুমকি দিয়ে যাওয়ার পর সারারাত ঘুমাতে পারিনি।
স্থানীয়রা ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে বিষয়টি মীমাংসা করারও সাহস পায়না। এছাড়া তারা পূর্বে আমার বাবাকে মারধর করেছে এবং গতকাল আম্মুকেও ধাক্কা দিয়েছে। আমি এসব ঘটনার বিচার এবং আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। অভিযুক্ত টিপু বিশ্বাস বলেন, ‘এটি তাদের পারিবারিক বিরোধ। আমি প্রতিবেশী হিসেবে তাদের ঝামেলার সময় সেখানে গিয়েছিলাম। তবে আমি এসব হুমকি-ধমকির সঙ্গে যুক্ত নই।’ পাবনার আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ দিলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিবো।’ প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে নবীন ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে তদন্তে ঘটনা প্রমাণিত হলে জড়িত থাকার দায়ে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অন্তরাসহ ৫ ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে কতৃপক্ষ।
