নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় যুব মহিলালীগের ২২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। গতকাল শনিবার (৬জুলাই) বিকাল ৪ টায় সময় কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে কুষ্টিয়া জেলা যুব মহিলালীগ এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা যুব মহিলালীগের আহবায়ক এম শম্পা মাহমুদ।
যুগ্ম আহবায়ক মেহেরিন আফরোজের পরিচালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খাঁন। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজগর আলী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আলহাজ্ব তরিকুল ইসলাম মানিক, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডঃ আ স ম আক্তারুজ্জামান মাসুম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল হক, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেব-উন-নিসা সবুজ, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ শীলা বসু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব বাদশা, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দৌলতপুর উপজেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি আয়েশা আক্তার লিনা, ভেড়ামারা উপজেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি রেহেনা খাতুন, মিরপুর উপজেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি শিরিন শিলা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি শাম্মি সারওয়ার, শহর কমিটির আমেনা আক্তার আঁখি প্রমুখ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খাঁন বলেন, আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ যুব মহিলালীগ। ২০০২সালের এই দিন ছাত্রলীগের এক ঝাঁক সাবেক নেত্রীকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যুব মহিলা লীগ। আওয়ামীলীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা যুব মহিলালীগ গঠন করেন। যুব মহিলালীগ প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল নারী সমাজকে এই সংগঠনের পতাকাতলে একত্রিত করে সকল বাধা জয় করে নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিসহ সকল অত্যাচার-অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করেছিল। দলের ক্লান্তিলগ্নে যুব মহিলা লীগের অবদান অনেক বেশি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে। বিভিন্ন অত্যাচার নির্যাতনের পরও তারা দমে জাননি। জাতীয় নির্বাচনের সময় তারা প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিজয় নিশ্চিত করেছেন। দেশের অর্ধেক ভোটার নারী। তাদের পেছনে ফেলে সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না। শেখ হাসিনার কল্যাণে নারীরা সকল পেশায় নারীরা এগিয়ে আছে। নারীরা তাদের যোগ্যতার মাধ্যমে প্রতিটি পদক্ষেপ নিচ্ছে। নারীদের শ্রম ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
অপরদিকে প্রধান বক্তার বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আজগর আলী বলেন, বিএনপি-জামায়াতকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে। বিএনপি রাজনীতির নামে অপরাজনীতি করে। হত্যা, ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে তাদের জন্ম হয়েছে। একজন অবৈধ দখলদার সেনা শাসকের পকেট থেকে একটা সংগঠন কায়েম হয়েছে। বিএনপি বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী। তিনি বলেন, আমরা ধ্বংসের রাজনীতি করি না, আমরা সৃষ্টির রাজনীতি করি। আমরা সন্ত্রাসের নয়, শান্তির রাজনীতি করি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সৃষ্টির রাজনীতি ও শান্তির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব। যখন দেশে বিএনপি-জামায়াত কর্তৃক নারীদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন চলছিল তখনই এই যুব মহিলা লীগ নামে সংগঠটি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তখন থেকেই এই সংগঠন আন্দোলন সংগ্রামে জোরালো ভূমিকা পালন করেছে এবং সকল ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
