কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় এক মাদ্রাসাশার্থীর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে দশ বছর বয়সী এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
Table of Contents
Toggleকুষ্টিয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ, শিক্ষক আটক

ঘটনার বিবরণ ও শিকার শিশুর অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক সিরাজুল হক (২৫) দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ ফজলুল হক উলুম বহুমুখী মাদ্রাসার শিক্ষক। তিনি নাটোর জেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের আইনাল হকের ছেলে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক বারোটার দিকে ওই মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহকে (১০) শিক্ষক সিরাজুল হক তার নিজ কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে শিশুটিকে জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য কড়া হুমকি দেওয়া হয়।
আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শিশুটি পরদিন শনিবার সকালে তার পিতা রাকিকুল ইসলামকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। সন্তানের মুখ থেকে এমন লোমহর্ষক বিবরণ শুনে পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে দৌলতপুর থানা পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করে।
পুলিশ ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ
সংবাদ পাওয়ার পরপরই দৌলতপুর থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। হোসেনাবাদ ফজলুল হক উলুম বহুমুখী মাদ্রাসা থেকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সিরাজুল হককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
মাদ্রাসাটির সুপার শামসুজ্জোহা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান যে, এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।
এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষকের দ্বারা এমন অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিমত, যারা নৈতিকতা ও ধর্মের শিক্ষা দেওয়ার কথা, তাদের কাছ থেকে এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বারবার প্রকাশ পাওয়ায় পুরো সমাজ ও ধর্মীয় শিক্ষার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই ধরনের অপরাধের কঠোর বিচার দাবি করে অভিভাবক ও এলাকাবাসী অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।









