খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ই এপ্রিল ২০২৩, ১:৫৩ পিএম

কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেছেন, উন্নয়ন হচ্ছে একটি অব্যাহত অগ্রগতি। আর অর্জন হচ্ছে ঐ অগ্রগতির সফলতা। দিন বদলের সনদ, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং রুপকল্প-২০৪১’র মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে একটি টেকসই উন্নত কাঠামোতে পরিণত করার প্রচেষ্টাই হলো স্মার্ট বাংলাদেশ। উন্নত বিশ্ব প্রযুক্তি ব্যবহারে আজ যে পর্যায়ে এসেছে তার কাজটা শুরু করেছিলো আজ থেকে ৩০ বছর আগে, তার পরও এসব দেশ যে শতভাগ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গেছে এমন দাবি করার সময় এখনো আসেনি। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে সেটা ঠিক সিদ্ধান্ত।
ইতোমধ্যে অর্জিত লক্ষ্যগুলোর সাথে ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশে যে সকল লক্ষ্য অর্জিত হবে সেগুলো হলো সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিভিত্তিক, জ্ঞানভিত্তিক এবং উদ্ভাবনী বাংলাদেশ। তৈরি হবে স্মার্ট সিটি ও স্মার্ট ভিলেজ। যেখানে বাস্তবায়িত হবে স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, স্মার্ট ট্রান্সপোর্টেশন, স্মার্ট ইউটিলিটিজ, নগর প্রশাসন, জননিরাপত্তা, কৃষি, ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। এগুলোর সম্পূরক হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, রোবটিক্স, মাইক্রোচিপ ডিজাইনিং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং ও সাইবার সিকিউরিটি।

তিনি বলেন, এক সময় পরাধীনতার শৃঙ্খল দেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু দেশ এখন স্বাধীন। এই স্বাধীনতা অর্জনও সহজ ছিল না। এই ছোট দেশটির এ পর্যন্ত অর্জিত কোন অগ্রগতিই মসৃণ পথ ধরে আসেনি। ছিল অগ্নি-পরীক্ষা অসম ত্যাগ। এই দেশ সবই মোকাবেলা করেছে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন প্রমাণ করেছিলেন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জনগনের ঐক্যপূর্ণ অংশগ্রহন, শক্তিশালী পরিকল্পনা কৌশল ও নিবেদিত প্রচেষ্টা কীভাবে দেশকে স্বাধীনতা এনে দিতে পারে। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলার। ৫০ বছরের প্রান্তে এসে জাতির পিতারই যোগ্য উত্তরাধিকার শেখ হাসিনা। তিনি স্বপ্ন দেখাচ্ছেন একটি ‘স্মার্ট বাংলাদেশ” ; সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অব্যাহত, বলিষ্ঠ ও অবিচল নেতৃত্বে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। এ জন্য আমাদের সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে।
বুধবার (৫এপ্রিল) সকাল ১০টার সময় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কুষ্টিয়া স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক আরিফ উজ জামানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে আমাদের করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)তাহমিনা আক্তার রেইনা।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা) মোঃ ফরহাদ হোসেন খাঁন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বীরমুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রমজান আলী আকন্দ, জেলা সিনিয়র তথ্য অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলাম ও বিশিষ্ট লেখক এবং গবেষক ডঃ আমানুর রহমান আমান প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছাঃ নাসরিন বানু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোছাঃ শারমিন আখতার, কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাধন কুমার বিশ্বাস, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীদুল ইসলাম,মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ হারুন অর রশিদ, ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিনা মমতাজ,কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল, খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপন বিশ্বাস জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
পরে সকাল ১১টার সময় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্মার্ট জেলা ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য