ঢাকা অফিস ॥ গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ে আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন ঐক্যের সমন্বয়ক এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে জমায়েত শুরু হবে। সকাল ৮টায় সমাবেশ শেষে লংমার্চ শুরু হবে।
পথে ছয়টি স্থানে পথসভা হবে। কর্মসূচির সমাপনী সভা হবে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, লংমার্চ হবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব। এতে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমরা প্রত্যাশা করছি।
লংমার্চের মূল লক্ষ্য সাত দফা দাবি আদায় উল্লেখ করে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, দুর্নীতি বন্ধ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং গুম-খুন ও হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন গঠন।
তিনি বলেন, প্রশাসনে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে মেধার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এবং নির্বাচন কমিশনেও দলীয়করণ করা হচ্ছে। বৈষম্যবিরোধী ও জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাংঘর্ষিক।
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আসনটিতে জোটের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যদি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিকল্পনা হয়, তাহলে জনগণ এর জবাব দেবে।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনে কারচুপির কোনো চেষ্টা হলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচনের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সেখানে কোনো ধরনের অনিয়ম হোক, তা আমরা চাই না। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের কর্মসূচির সূচনা হবে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে ছয়টি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানগুলো হলো– শরীয়তপুরের নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরী চত্বর, খুলনার ফুলতলা স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মণিরামপুর এবং ঝিনাইদহের চৌরঙ্গী বাসস্ট্যান্ড। সবশেষে কুষ্টিয়া জেলা হাইস্কুল মাঠে সমাপনী সভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হবে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, লংমার্চের পথে নারী পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ, কৃষক শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহণ ও স্বাগত জানানোর প্রস্তুতির খবর আমরা পাচ্ছি।
লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে শুরু করে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রতিটি স্থানে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।
ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।









