বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের স্মরণোৎসব ১৭ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর। তিনদিনের অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের মিলনমেলা ঘটে কুষ্টিয়ার কুমারখালি ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গনে। কিনে থাকেন একতারা। বাউল গানের অন্যতম অনুষঙ্গ একতারা। আর এই একতারাকে কেন্দ্র করে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ির আশপাশে গড়ে উঠেছে বেশকিছু কারখানা।
এসব কারখানায় তৈরি হচ্ছে একতারাসহ নানা সামগ্রী। উৎপাদিত এসব একতারা বিভিন্ন স্থানেও সরবরাহ করা হয়। একতারা তৈরি করে এই এলাকার অনেক পরিবার জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। অর্থ উপার্জন করে আর্থিক সচ্ছলতাও ফিরেছে অনেক পরিবারে। একতারা তৈরির কারিগর রাজু, আকাশসহ একাধিক জনের সাথে কথা বললে এমন তথ্যই জানান।
তাদের মতে লালনের গান আর একতারার টুংটাং সুরে ভক্ত-অনুসারীরা খুঁজে পান অমৃতের সন্ধান। ভক্তদের তৃষ্ণা মেটাতে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আশপাশে কারিগররা একতারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এতে করে একদিকে যেমন দেশীয় ঐতিহ্য রক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে তারা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এই বাদ্যযন্ত্রটির সুরের মূর্ছনায় আজও যেন পাওয়া যায় মাটির ঘ্রাণ।
আধুনিক প্রযুক্তির অসংখ্য বাদ্যযন্ত্রের মাঝে যে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রটি এখনো আদি ও অকৃত্রিমভাবে টিকে আছে সেটির দৃষ্টান্ত হলো একতারা। আর কুষ্টিয়ায় ফকির লালন শাহের মাজারকে কেন্দ্র করে এই একতারায় পেয়েছে ভিন্ন রূপ। একতারা বানানোর কাজ করে বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে অনেক নারী-পুরুষ। ছেউড়িয়া, বিশ্বাসপাড়া, মন্ডলপাড়া, জয়নাবাদ অনেক নারী-পুরুষ এই কাজ করে হয়ে উঠেছেন আত্মনির্ভরশীল।
তবে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে এই বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে লাভ কিছুটা কম হচ্ছে বলে জানালেন কারুশিল্পীরা। বিক্রেতারা জানান, দিনদিন বাড়ছে একতারার চাহিদা। সরেজমিনে দেখা যায়, একতারায় নকশা, বাঁশের ছোর, কান ও মুঠো তৈরিতে ব্যস্ত। দহ, যশোর থেকে সংগ্রহ করা হয়। বিভিন্ন রকমের একতারার দাম ৪০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। তবে বায়না করে আরও সুন্দর করতে চাইলে দামটা এক হাজার ছাড়িয়ে যায়।









