বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেছেন, ব্লাস্ট যেভাবে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সহায়তা প্রদান করে আসছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য তাদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনের আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য সহজ ও সমান করতে ব্লাস্টের এই মানবিক ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স কক্ষে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) কুষ্টিয়া ইউনিট আয়োজিত জেলা পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথিট বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা নিশ্চিতে বিনামূল্যে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে অসহায়, নির্যাতিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য আইনি পরামর্শ, সহায়তা ও মানবিক সেবা প্রদানে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ভয়, সামাজিক সংকোচ কিংবা নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করতে চান না। এমনকি অনেক অভিভাবকও ভুক্তভোগীদের মুখ খুলতে নিরুৎসাহিত করেন। ফলে অনেক ঘটনা আড়ালেই থেকে যায় এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।
ব্লাস্টের সহ সভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এসএম শাতিল মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরে সফুরা ফেরদৌস, দিশার সহকারী পরিচালক এমআর ইসলাম, ফেয়ার এর নির্বাহী পরিচালক দেওয়ান আকতার, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি মিতা রানী মজুমদার, পুলিশ পরিদর্শক (ওসিসি) রেখা খাতুন, ব্লাস্টের কো-অর্ডিনেটর শংকর কুমার মজুমদার এবং শালিস কর্মকর্তা অন্তরা মজুমদার, ইশতিয়াক প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হলে ভুক্তভোগীদের সাহসের সঙ্গে সত্য তথ্য তুলে ধরতে হবে এবং পরিবারকেও সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। তারা নির্যাতন, সহিংসতা ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্য আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবিক সেবা সম্প্রসারণ এবং ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সভায় অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মানবাধিকার রক্ষা, সরকারি ও বেসরকারি আইনি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সহজতর করতে একটি কার্যকর রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।









