কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

নাশকতা মামলায় হাসান আলী মেম্বারকে কোর্টে প্রেরন

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশের অভিযানে হাসান আলী মেম্বরকে গ্রেফতার করেছে। তিনি আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার। আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াতে ইসলামী থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং গত ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রত্যশী ছিলেন তিনি। গ্রেফতারের বিষয়ে ইবি থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আব্দালপুর ইউনিয়নের হাসানবাগ এলাকা থেকে রাজাপুর গ্রামের হাসান মেম্বারকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর হাসান আলী মেম্বরকে নাশকতা মামলায় কোর্টে প্রেরণ করেছে ইবি থানা পুলিশ।

প্রসঙ্গত: এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত হাসান আলী ওরফে ‘হাসান মেম্বার’কে গ্রেপ্তারের পর তাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের থানা ঘেরাওয়ের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এক তথ্য সূত্রে জানা যায়, হাসান আলী আওয়ামী লীগ ছেড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করেন এবং বর্তমানে আব্দালপুর ইউনিয়ন কমিটির সেক্রেটারী পদে দায়িত্বে রয়েছেন। এদিকে সোস্যাল মিডিয়ায় তার পূর্বের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সেখানে তার রাজনৈতিক অতীত নিয়েও রয়েছে ভিন্ন তথ্য।

২০২১ সালের আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হাসান আলীকে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছিল, তিনি একসময় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। একই প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষ থেকেও তাকে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার দাবি করা হয়েছিল। তবে এসব বক্তব্য সে সময়ের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে আব্দালপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন আরব আলী।

অন্যদিকে হাসান আলী নৌকা প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে সময় তাকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও তার বিরোধীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া, বর্তমানে হাসান আলীকে গ্রেপ্তারের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের থানা ঘেরাওয়ের ঘটনাই নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ইবি থানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়, হাসান আলীকে গ্রেফতারের পরে ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মী থানা গেটে ভীড় করলে, ইবি থানা পুলিশ তাকে নাশকতা মামলায় আসামী করে কোর্টে প্রেরণ করেন।

অন্যদিকে, তিনি যদি আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করে থাকেন, তাহলে তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবস্থানের রাজনৈতিক ভিত্তি কী সেটিও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আব্দালপুর ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক টুটুল এর ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। গোপন সূত্রে, হাসান আলীর গ্রেফতার, তাকে মুক্ত করতে থানা গেটে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ঘেরাও ও কোর্টে প্রেরনের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেলেও, ঘটনার বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর