কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় পানি কমলেও কাটেনি দুর্ভোগ, এখনো পানিবন্দি ২০ হাজার পরিবার 

দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার কমেছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বন্যার পানিতে বসতভিটা, রাস্তাঘাট, ফসল ও আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এ সময় জরুরি প্রয়োজনে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার প্রধান অবলম্বন এখন ছোট ডিঙি নৌকা।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাউদ্দৌলা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মার পানি ৫ সেন্টিমিটার কমেছে। আপাতত নতুন করে পানি বাড়ার আশঙ্কা নেই। তবে পানি কমলেও দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় নলকূপ ও অন্যান্য পানির উৎস দূষিত হয়ে পড়েছে। ফলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট। এতে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি জ্বর, সর্দি-কাশি, চর্মরোগ, চোখের সমস্যা ও বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। এদিকে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ১৮ টন চাল এবং শুকনা খাবারের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের চাল ১০ কেজি করে এক হাজার ৮০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে ২ লাখ টাকার শুকনা খাবার দেওয়া হবে আরও ২৫০ পরিবারকে।

তবে স্থানীয়দের দেওয়া প্রায় ৮০ হাজার পানিবন্দি মানুষের হিসাবের তুলনায় এই সহায়তার খুবই অপ্রতুল। ফলে দুর্গতদের বড় একটি অংশ এখনো সরকারি সহায়তার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, শুধু চাল ও শুকনা খাবার নয়, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, চিকিৎসাসেবা, স্যানিটারি সামগ্রী, গোখাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থাও জরুরি ভিত্তিতে বাড়াতে হবে। এদিকে পানি কমতে শুরু করলেও কৃষকের ক্ষতি এখনো বাড়ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, চিলমারী, রামকৃষ্ণপুর, ফিলিপনগর, মরিচা, প্রাগপুর ও হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৫০ দশমিক ১৩ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

বন্যার কারণে দুই ইউনিয়নের শিক্ষাব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য গুহ জানান, চরাঞ্চলের ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু আছে। স্থানীয়দের দাবি, দুটি মাদ্রাসাসহ মোট ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় শিশুদের পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর