দৌলতপুর প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে শোডাউন করে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানায়। এতে উভয় পক্ষের চারজন গুরুতর আহত হয়।
গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন, মন্ডল গ্রুপের প্রধান ওয়াসিম মন্ডল ও তুষার মন্ডল (সুমন) এবং সরদার গ্রুপের প্রধান লিটন সরদার ও কামাল সরদার। তাদের মধ্যে তিনজনই গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনাবাদ এলাকায় মন্ডল ও সরদার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য কয়েক দফা সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। পরিস্থিতির অবনতি হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ছোট ভাই ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা গত বৃহস্পতিবার দুই পক্ষকে নিয়ে সালিশ বৈঠকে বসেন। তবে ওই বৈঠকেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সন্ধ্যায় হোসেনাবাদ বাজারে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় দুই পক্ষের প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে এবং কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তুষার মন্ডল (সুমন) এবং লিটন সরদার ও কামাল সরদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ায় রেফার করেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সংঘর্ষের কারণে প্রাগপুর-ভেড়ামারা প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা বলেন, তারা সবাই আমাদের দলের লোকজন। তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। গত বৃহস্পতিবার আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছিলাম। তবে সালিশ বৈঠকে পুরোপুরি সমাধান হয়নি। আজ শুনছি, তারা দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, হোসেনাবাদ বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। ঘটনায় জড়িতদের এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। তারা সবাই পলাতক রয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছি।









