ইবি প্রতিনিধি: সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত অংশের নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে বিধিমালা পরিবর্তন ও ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর মাধ্যমে দলীয়করণ, ঘুষ-বাণিজ্য ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক ছাত্রনেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়ামোড় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন গেটে গিয়ে ছাত্র সমাবেশে মিলিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা কোটা না মেধা, মেধা মেধা; অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভাইবা কোটার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, মেধাবীদের মুক্তি দে’, ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সেই’, ‘মামা খালুর সুপারিশ, চলবে না চলবে না’, ‘ভাইবার নামে বাণিজ্য, চলবে না চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বক্তারা বলেন, এটি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত। আমাদের দেশে কীভাবে নানান সুপারিশের মাধ্যমে চাকরি হয়, তা আমরা জানি। ভাইবার নম্বর বাড়ানোর ফলে সব নিয়োগে দূর্নীতি স্বজনপ্রীতি হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে যে সরকার ক্ষমতায় বসেছে, সেই সরকার সেই একই পথে হাটছে। কোনভাবেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।
শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন বলেন, নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার মার্ক বৃদ্ধির উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বজনপ্রীতি, নিয়োগ বাণিজ্য। সরকারকে আমরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই—শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে এ ধরনের ছিনিমিনি খেলবেন না। সর্বশেষে ফ্যাসিস্ট হাসিনা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে এ ধরনের ছিনিমিনি খেলতে চেয়েছিল, তিনি এখন দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ঠিক একই ধারাবাহিকতায় আপনাদের হাতেই সিদ্ধান্ত যে আপনারা কোথায় অবস্থান করবেন। এই আইন বাতিল করে শিক্ষার্থীদের অধিকার, শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার আহবান জানাই।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ইবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, আমরা চাই না কৃষকের ছেলে কৃষক হবে, ভ্যানচালকের ছেলে ভ্যানচালক হবে। টাকার অভাবে, পাইপলাইনে অভাবে বিপুল মেধাবী শিক্ষার্থী আবার ভ্যানগাড়িতে ফিরে যাবে, রিকশা চালাবে। সরকার সংসদে ভাইভার নাম্বার বৃদ্ধির ছাত্রবিরোধী আইন পাস করার জন্য যে উদ্ভট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তা থেকে ফিরে আসবে বলে আশা করি। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ সবসময়ই ছাত্র বিরোধী সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে, এবারেও করবে। মেধাবীরা থাকবে পড়ার টেবিলে, রাস্তায় নয়। আশা করি ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ছাত্র-জনতাবিরোধী কোনো আইন পাস করবে না।









