কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

এটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব: ব্যারিষ্টার রাগীব চৌধুরী

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আখ চাষী সমাবেশে কুষ্টিয়া সুগারমিল চালুর আশ্বাস দিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিষ্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী কুষ্টিয়ার চিনিকল চালু হোক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিশ্চই এ দাবী শুনবেন এবং এটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাও সম্ভব।

এ জন্য তিনি আখচাষীসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। আখচাষী বাচাও, মিল বাচাও” ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাচারিতা ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার হীন উদ্দেশ্য ২০২০ সালে স্থগিত হওয়া প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, কুষ্টিয়া সুগার মিলটি পুনরায় চালুর দাবিতে, গতকাল শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়ার জগতিতে অবস্থিত সুগার মিলের প্রধান ফটকে আখচাষী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে আখচাষী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালে আওয়ামীলীগ আমলে মিল বন্ধ করার যে প্রক্রিয়া করা হয়েছিলো, সেই সময় একটি চালু মিল বন্ধ করতে গেলে বিকল্প কোন পন্থা দেখানো হয়। সেই পন্থার অংশ হিসেবে বলা হয়েছে যে, এখানে একটা অর্থনৈতিক জোন করা হবে। গত আওয়ামী লীগ সরকার ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায়, সেই সময়ও বাংলাদেশের ১০টি অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করার পরেও, সেই অর্থনৈতিক জোনগুলো লাভজনক না বলে মিলগুলির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। না হলে কুষ্টিয়া সুগার মিলের কি এমন অবস্থা দাড়ালো, যে বাকি অর্থনৈতিক জোন কোথাও চলছে না, সেখানে কুষ্টিয়া সুগার মিল চালু করলে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে কয়েকহাজার শ্রমিকের স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

লাখ লাখ কৃষকের স্বার্থ জড়িত রয়েছে। সেই লাখ লাখ কৃষকের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে, শ্রমিকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে, শুধুমাত্র ব্যক্তি স্বার্থে এখানে যদি অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাহলে আমি মনেকরিনা যে এই এলাকার মানুষের উপকার হবে। যে জোন গুলো অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা করা হয়েছে সেই জোন গুলো চলছে না। নতুন করে অর্থনৈতিক জোন ঘোষণা করলে সেই জোন কিভাবে চলবে? সরকার যদি সঠিকভাবে বিবেচনা করেন, আখ ও চিনির বর্তমান যে দাম, সেই তুলনায় কুষ্টিয়া সুগার মিল চালু করলে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে যাবে। এখানে নতুন মেশিনারি দিয়ে সুগার মিল চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাহলে শ্রমিক ও কৃষক মিলে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আখ চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলম মালিথার সভাপতিত্বে সুগার মিলের সাবেক শ্রমিক কর্মচারী নেতৃবৃন্দ, আখ চাষী ও স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন। 

সমাবেশে হাজারো আখচাষী উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার আগে ১৯৬১ সালে কুষ্টিয়া চিনিকল প্রতিষ্ঠিত হয়। একসময় এটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল। এই চিনিকল ঘিরেই এই অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে পড়ে। এতে একসময় বছরে এক বা দুই মাস চালু থাকতো চিনিকলটি। অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। সবশেষ অব্যাহত লোকসানের মুখে গত ২০২১-২২ মৌসুমে মিলটির উৎপাদন বন্ধ করে দেয় আওয়ামীলীগ সরকার। কথা ছিল অর্থনৈতিক জোন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। কিন্তু সে সময় কুষ্টিয়া সুগার মিল বন্ধ হওয়ার পর এখনো চালু হয়নি। আখ চাষী ও শ্রমিকদের দাবি পুনরায় মিলটি চালু করা হোক।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর