কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ “মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান” সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা আর বিদ্রোহের যে অমর বাণী দিয়ে বাঙালিকে জাগিয়েছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সেই চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে শুরু হয়েছে নজরুলবর্ষের সাংস্কৃতিক আয়োজন।
গান, কবিতা, আলোচনা আর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উদ্বোধন করা হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। দেশব্যাপী নজরুলবর্ষ ২০২৬-২০২৭ উদযাপনের অংশ হিসেবেই এ আয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসন ৩০৬-এর সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিককর্মী, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, দেশের আন্দোলন-সংগ্রাম, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের প্রতিটি অধ্যায়ে নজরুলের গান, কবিতা ও লেখনী মানুষকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। সংস্কৃতিকর্মীরা বলেন, সাহিত্য ও সংগীতের শক্তিতেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবতা, সাম্য এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বোধ তৈরি করা সম্ভব।
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ কুমারখালীতে নজরুলচর্চার বিস্তারে গবেষণাগার এবং রবীন্দ্র মঞ্চ নির্মাণের দাবিও জানান তাঁরা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিরা বলেন, নজরুলের চেতনা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সেই চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে।
বক্তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, নজরুলের দর্শন, চেতনা ও সৃষ্টিকর্ম নিজেদের ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী প্রজন্মকে তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দিতে হবে। নজরুল ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহের কবি, আবার প্রেম, সাম্য, মানবতা ও সম্প্রীতিরও কবি। তাঁর সৃষ্টির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ প্রতিযোগিতা চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। কুমারখালীর প্রত্যাশা নজরুলের গান, কবিতা ও চেতনায় আলোকিত হবে নতুন প্রজন্ম; তৈরি হবে মানবিক, অসাম্প্রদায়িক এবং প্রতিবাদী বাংলাদেশ।









