কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুমারখালীতে সার বণ্টনে স্বচ্ছতার দাবি

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কৃষকের উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান উপকরণ সার। আর সেই সারের সরবরাহ, বরাদ্দ ও প্রাপ্য হিসাব নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার খুচরা সার বিক্রেতা ও সাব-ডিলাররা মতবিনিময় সভা করেছেন।

তাঁদের দাবি সারের বরাদ্দ ও সরবরাহের প্রতিটি স্তরে ন্যায্য হিসাব, স্বচ্ছ বণ্টন এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হোক, যাতে কোনো বিভ্রান্তি বা জটিলতার কারণে কৃষক পর্যায়ে সার সংকটের আশঙ্কা তৈরি না হয়। গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে কুমারখালী উপজেলা চৌরঙ্গী বাজারে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক খুচরা সার বিক্রেতা ও সাব-ডিলার অংশ নেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমারখালী উপজেলা খুচরা সার বিক্রেতা ও সাব-ডিলারদের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডিলার, সাব-ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু বরাদ্দ ও সরবরাহের হিসাব নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলে অনেক সময় বিক্রেতারা তাঁদের প্রকৃত প্রাপ্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না।

এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষক পর্যায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাঁদের ভাষ্য, কৃষি মৌসুমে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় সামান্য জটিলতাও বড় ধরনের সমস্যার জন্ম দিতে পারে। তাই কার কাছে কত সার বরাদ্দ, কী পরিমাণ সরবরাহ করা হয়েছে এবং কার প্রাপ্য কত—এসব তথ্য সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছভাবে সংশ্লিষ্টদের কাছে তুলে ধরা জরুরি। খুচরা সার বিক্রেতা ও সাব-ডিলাররা জানান, সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই তাঁরা কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিতে চান।

তবে বরাদ্দ ও সরবরাহের হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এ কারণে তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ন্যায্য ও স্বচ্ছ হিসাব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, সার শুধু একটি কৃষি উপকরণ নয়; দেশের খাদ্য উৎপাদন ও কৃষকের জীবিকার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সময়মতো কৃষকের হাতে প্রয়োজনীয় সার পৌঁছাতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সার সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তাঁদের মতে, খুচরা বিক্রেতা ও সাব-ডিলারদের প্রাপ্য সারের হিসাব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দ্রুত তা বাস্তবায়ন করা হলে একদিকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা ফিরবে, অন্যদিকে কৃষকরাও সময়মতো প্রয়োজনীয় সার পেয়ে উপকৃত হবেন। এতে বাজারে সার নিয়ে সম্ভাব্য অস্থিরতা ও বিভ্রান্তিও কমে আসবে। সভা থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলা হয়, ন্যায্য হিসাব, স্বচ্ছ বণ্টন ও সঠিক তদারকিই পারে কৃষকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে। কৃষি ও সার ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অভিমত, বিষয়টি দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধান করা গেলে আসন্ন কৃষি মৌসুমে কুমারখালীতে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরবে। সবচেয়ে বড় কথা, সুরক্ষিত হবে কৃষকের স্বার্থ এবং নির্বিঘ্ন থাকবে মাঠের উৎপাদনচক্র।

 

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর