বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে মাসিক ভিত্তিতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে ভিশন কুষ্টিয়া। গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল থেকে কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ভিশন কুষ্টিয়ার প্রধান উপদেষ্টা মিস লিনা জাকির। এতে সভাপতিত্ব করেন উক্ত সংগঠনের সভাপতি খোন্দকার আব্দুল মজিদ ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান চৌধুরী। এসময় প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমাদের সমাজে অনেক এতিম ও অসহায় শিশু রয়েছে, যারা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছে। তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বও।
তিনি আরো বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের সমাজ আরও মানবিক ও সুন্দর হয়ে উঠবে। বিশেষ করে এককালীন সহায়তার পাশাপাশি নিয়মিতভাবে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিশন কুষ্টিয়ার প্রতিনিধিরা বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব।
বিশেষ করে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে থাকা শিশুদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, এককালীন সহায়তার পাশাপাশি নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে সহযোগিতা করা গেলে এসব প্রতিষ্ঠানের শিশুদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই ভিশন কুষ্টিয়ার পক্ষ থেকে মাসিক ভিত্তিতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে।
কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা ভিশন কুষ্টিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু প্রয়োজন মেটায় না, বরং অসহায় শিশুদের প্রতি সমাজের মানুষের দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার বার্তাও তুলে ধরে। ভিশন কুষ্টিয়ার পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও জেলার বিভিন্ন এতিমখানা, লিল্লাহ বোর্ডিং ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। নিয়মিত এ সহায়তার মাধ্যমে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ও পড়াশোনায় সহযোগিতা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।









