খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ১:৫৩ এএম

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া বড় স্টেশনসংলগ্ন কবি আজিজুর রহমান সড়কে ড্রেন নির্মাণকাজে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ড্রেন নির্মাণের জন্য এস্কেভেটর মেশিন দিয়ে মাটি খননের সময় পাশের কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এতে কয়েকটি দোকানের দেয়াল ও স্থাপনা ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের সময় ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার পাশে মাটি খননের ক্ষেত্রে যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা অনেক জায়গায় নেওয়া হচ্ছে না। ফলে খনন করা অংশের মাটি ধসে পড়ছে এবং পাশের ভবনের বেসমেন্টের নিচ থেকেও মাটি সরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। জানা গেছে, কুষ্টিয়া বড়বাজার থেকে মিলপাড়া পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০৪ ফুট দীর্ঘ আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে।
ড্রেনটির প্রস্থ প্রায় ৩ দশমিক ৯৩৬ ফুট। সড়কটির পৌরসভার আওতাধীন মোট জায়গা প্রায় ৩০ দশমিক ১৭৫ ফুট। তবে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার প্রস্থ কমবেশি রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কবি আজিজুর রহমান সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেট রয়েছে। এসব মার্কেটের কোনোটি দুইতলা, আবার কোনোটি পাঁচ থেকে ছয়তলা পর্যন্ত। ফলে ভবনের খুব কাছ থেকে গভীরভাবে মাটি খনন করায় ভবনগুলোর ভিত্তি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আলামিন রেজা নামের এক দোতলা ভবন মালিক বলেন, এই সড়কে দুই থেকে ছয়তলা পর্যন্ত অনেক মার্কেট বা বাড়ি রয়েছে। ড্রেন নির্মাণের জন্য যেভাবে মাটি খনন করা হচ্ছে, তাতে ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বেসমেন্টের নিচের মাটিও ধসে পড়ছে। এতে ভবনগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমার ভবনটিও এমন ঝোঁকির মুখে রয়েছে। মাটি খননের আগে ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার ছিল। এখন যদি কোনো ভাবে। আমার ভবনের দেয়াল বা অংশবিশেষ ধসে পড়ে, তাহলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা কয়েকবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে বিষয়টি জানিয়েছি। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করে মাটি খননের অনুরোধ করেছি। কিন্তু আমাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এভাবে কাজ চলতে থাকলে কোনো ভবন বা দেয়াল ধসে পড়ে মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে। ড্রেন নির্মাণের জন্য খনন করা অংশে বৃষ্টির পানি জমে মাটি নরম হয়ে যাচ্ছে। এতে খনন করা অংশের দুই পাশের মাটি ধসে পড়ছে। একই সঙ্গে পাশের ভবনের বেসমেন্টের নিচ থেকেও মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্মাণকাজ চলাকালে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। ভারী এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটার সময় আশপাশের ভবনগুলো পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নির্মাণকাজের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী এস. এম. রুহুল আমিন বলেন, ওই স্থানে আগে যে ড্রেন ছিল, সেটি ভেঙে নতুনভাবে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন ড্রেনটি আগামী প্রায় ৫০ বছর ব্যবহার করা যাবে। তিনি বলেন, ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মাপ বিভিন্ন রকম। আমরা পৌরসভার জায়গা দাগিয়ে দেওয়ার পর ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি খনন করা হচ্ছে। ভবনগুলোর কাছাকাছি মাটি খননের বিষয়ে তিনি বলেন, আশপাশে থাকা অধিকাংশ ভবন পৌরসভার অনুমোদিত প্ল্যানের বাইরে নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে অনেক জায়গায় ভবনের খুব কাছ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করতে হচ্ছে।
বৃষ্টির কারণে মাটি ধসে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মাটি খননের ফলে অনেক সময় ভবনের বেসমেন্টের মাটিও ধসে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো না। অতিবৃষ্টির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি ড্রেন নির্মাণের জন্য খনন করা অংশে জমে যাচ্ছে। এতে দুই পাশের মাটি ভেঙে ড্রেনের মধ্যে পড়ছে। ড্রেন নির্মাণকাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোমানা এন্টারপ্রাইজের মালিক ফারুকের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে ড্রেন নির্মাণের কাজ চললেও ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না স্থানীয়দের। তাদের দাবি, নির্মাণকাজ বন্ধ না করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ড্রেন নির্মাণকাজে পৌরসভার সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি, ভবনের ভিত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পথচারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য