খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জুলাই ২০২৬, ১:২৫ এএম

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বখাটের কুপ্রস্তাবে ও কুকর্মে বাধা দেওয়ায় ওই শিশুর মুখে সিগারেটের জ্বলন্ত আগুন ঠেলে দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়া হয়েছে। পাশবিক এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত ইয়াসিন (১৬) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।আটককৃত ইয়াসিন কয়া ইউনিয়নের কয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে প্রাইভেট পড়ে দুই বোন বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে দক্ষিণপাড়ার মিজানুর রহমানের ছেলে ইয়াসিন তাদের পথরোধ করে। সে বড় বোনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্যত্র সরিয়ে দেয় এবং ছোট বোনকে (৫) গলার নিচে ছুরি ধরে জোরপূর্বক পাশের জঙ্গলে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে চাচাতো বোনসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বখাটে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে শিশুটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
এতে ব্যর্থ হয়ে পিশাচ ইয়াসিন শিশুটির মুখে সিগারেটের জ্বলন্ত আগুন ঠেলে দিয়ে মারাত্মকভাবে পুড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বখাটে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরদিন গতকাল বুধবার (২২ জুলাই) সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইয়াসিনকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় শিশুটির পরিবার ও এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিশু সুরক্ষায় এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত কিশোর স্বীকার করেছে যে, যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে সে শিশুটির হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শিশুটি সেখান থেকে সরে আসার চেষ্টা করলে সে পকেটে থাকা সিগারেট জ্বালিয়ে শিশুর মুখে ছ্যাঁকা দেয়।’ তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের শ্লীলতাহানিমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে কুমারখালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য