খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ২:৩৩ এএম

ইবি প্রতিনিধি ॥ একের পর এক একাডেমিক অনিয়ম, খাতা মূল্যায়নে বৈষম্য, ব্যক্তিগত আক্রোশে নম্বর কমিয়ে দেওয়া, শিক্ষার্থীকে হুমকি-ধামকি এবং প্রশাসনিক দায়িত্বের অপব্যবহার সহ পাহাড়সম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বরাবর অভিযোগপত্র এবং অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংবলিত ৪২ পৃষ্ঠার একটি লিখিত অভিযোগপত্র দিয়েছেন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব শেখ। এ
সময় অভিযুক্ত ডিনের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে মাস্টার্স (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বসহ সংশ্লিষ্ট একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বিরত রাখার দাবি জানিয়েছে ওই শিক্ষার্থী। উপাচার্যের কাছে দেওয়া আবেদনপত্রে বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব অভিযোগ করেন, বিভাগের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং অনার্স চূড়ান্ত পরীক্ষা দ্রুত সম্পন্নের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর থেকেই অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন তার প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করেন। এর প্রভাব পড়ে পরীক্ষার ফলাফলেও। তার দাবি, ওংষধসরপ খধি ড়ভ ওহযবৎরঃধহপব (কোর্স নং-৪১০৫) বিষয়ে প্রথম পরীক্ষক হিসেবে অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন ৭০ নম্বরের মধ্যে তাকে মাত্র ৩২ নম্বর দেন। পরে দ্বিতীয় পরীক্ষক একই খাতায় ৫৫ নম্বর প্রদান করলে দুই পরীক্ষকের নম্বরের ব্যবধান ২৩ হওয়ায় খাতা তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়। সেখানে ৩৭ নম্বর দেওয়া হলে চূড়ান্ত নম্বর দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক ৫। রাকিবের অভিযোগ, শুধু চূড়ান্ত পরীক্ষাই নয়, একই কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষাতেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কম নম্বর দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। রাকিবের দাবি, আগের সাতটি সেমিস্টারের কোনো সময়ই তার সিজিপিএ ৩.২১-এর নিচে নামেনি। কিন্তু চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারে অস্বাভাবিকভাবে নম্বর কম দেওয়ার কারণে তার সিজিপিএ ২.৯৫-এ নেমে আসে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি-সংক্রান্ত কোটা নিয়ে কথা বলার পর অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন অন্য এক শিক্ষকের মাধ্যমে তাকে হুমকি দেন। তাকে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনি সার্টিফিকেট তুলতে পারবেন না, এমনকি নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকেও ফিরতে পারবেন না। তার অভিযোগ, শুধু তার ক্ষেত্রেই নয়; বিভাগের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে শূন্য নম্বর দিয়ে একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত ক্লাস ও ক্রেডিট আওয়ার সম্পন্ন না করেই কোর্স শেষ করা এবং রাজনৈতিকভাবে ঘনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। এদিকে, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারিও একই ধরনের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে অধ্যাপক নাজিমুদ্দিন মাস্টার্স (২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ) পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকায় তার অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিলে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন রাকিব শেখ। এসব বিস্তার অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক ড. মো. নাজিমুদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা একটিও অভিযোগ সত্য নয়। এগুলো একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। প্রকৃত ভুক্তভোগী বলে যাদের উপস্থাপন করা হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। আর ঐ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ক্লাসেও উপস্থিত ছিল না। তাই ইন্টারনালে শূন্য নম্বর পেয়েছে। ক্লাস না নেওয়া, আন্দোলন করায় হুমকি ও রিটেক সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যদি কোনো ধরনের হুমকি দিয়ে থাকি সেটার রেকর্ড থাকতে হবে অবশ্যই। কাউকে হুমকি দিয়ে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করুক। তাছাড়া, আমার ক্লাসের সব রেকর্ড সংরক্ষিত আছে, এটেনডেন্স শিট আছে; এটা দেখলেই বোঝা যাবে আমি ক্লাস নিয়েছি কিনা। আর রিটেক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত এককভাবে আমার নয়। বিভাগের ও পরীক্ষা কমিটিরও এখানে দায় রয়েছে। আপনি তাদের সাথে কথা বলেন।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য