খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ২:২৭ এএম

ইবি প্রতিনিধি ॥ দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু থাকলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের নির্ভর করতে হয় ব্যাংকভিত্তিক সনাতন পদ্ধতিতে। ভর্তি, সেমিস্টার ফি, পরীক্ষা ফি ও সনদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাংকে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের। এরই মধ্যে আগামী ২৮ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম। তবে এখন পর্যন্ত অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালুর বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর জন্য এর আগে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর তৎকালীন প্রশাসন ও অগ্রণী ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে একটি ই-পেমেন্ট অ্যাপ চালু করা হয়েছিল। তবে কারিগরি সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং শিক্ষার্থীদের কম আগ্রহের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
পরে গত বছরের অক্টোবরে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের দাবির মুখে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সঙ্গে অনলাইন ফি পরিশোধ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে চুক্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সে সময় দ্রুত এ সেবা চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও চলতি বছরের মাঝামাঝি প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে এর বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, “ঢাবি, রাবি, জাবিসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইনে সহজেই ফি পরিশোধ করতে পারলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হয়।
অনেক সময় দিনের বড় একটি অংশ শুধু টাকা জমা দিতেই চলে যায়। দুই দিন পরই নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। তখন ব্যাংকে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ভোগান্তি আরও বাড়বে। প্রশাসন দ্রুত অনলাইন ব্যবস্থা চালু করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং প্রশাসনের প্রতি আস্থাও বাড়বে।” ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিহাদ বলেন, “দেশের প্রথম সারির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা না থাকাটা দুঃখজনক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়েই অনলাইন ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
বড় ভাইদের কাছ থেকে শুনেছি, ভর্তির সময় ব্যাংকে প্রচুর ভিড় হয়। তাই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে যেতে হবে।” ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী জারিন জাবিনের বাবা বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম সকালে গিয়ে একদিনেই ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ফিরতে পারব। কিন্তু এখন শুনছি ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে একদিনের বেশি সময় লাগতে পারে। এত বড় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো শুধু ব্যাংকনির্ভর পেমেন্ট ব্যবস্থা থাকাটা সত্যিই হতাশাজনক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মো. শাহজাহান আলী বলেন, “অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব প্রক্রিয়াই সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি হয়েছে। কিছুদিন আগে একটি বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে অনলাইনে ফরম পূরণের কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। এখন বিভিন্ন বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের হলসংযুক্তি ও প্রযোজ্য ফিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করে ইসলামী ব্যাংকের সিস্টেমে আপলোড করা হলে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ফি পরিশোধ করতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি কিছুটা সময়সাপেক্ষ। তবে বিভাগগুলো সময়মতো তথ্য সরবরাহ করলে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করতে আর কোনো বাধা থাকবে না।” নতুন শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রমে অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যেহেতু বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন, তাই এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।” ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়স্থ শেখপাড়া সাব-ব্রাঞ্চের ইনচার্জ মোহাম্মদ রবিউল বলেন, গত বছরের শেষের দিকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অনলাইন ফি পরিশোধসংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়।
এর আওতায় ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ফি অনলাইনে সফলভাবে আদায় করা হয়েছে। এখন অন্যান্য বিভাগগুলোর তথ্য পেলে দ্রুত সব বিভাগে অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “নতুন উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পূর্ণাঙ্গ ডেটা পেলে যত দ্রুত সম্ভব আমরা কাজটি সম্পন্ন করে দেব।” প্রসঙ্গত, আগামী ২৮ জুন থেকে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।
এমন সময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস থাকলেও এর বাস্তবায়নের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ভর্তি ফিসহ বিভিন্ন ফি পরিশোধে শিক্ষার্থীদের আগের মতোই ব্যাংকনির্ভর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে। দীর্ঘদিনের এ ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী ও ভর্তিচ্ছুরা।
কোনো সম্পর্কিত খবর পাওয়া যায়নি.
মন্তব্য