কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

৮ বাহিনীর দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত জনপদ

দৌলতপুর-ফিলিপনগরে সন্ত্রাসীদের রাজত্ব

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়ন বর্তমানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, একসময় শান্তিপূর্ণ এ জনপদ এখন সন্ত্রাসী বাহিনীর অভয়ারণ্যে রূপ নিয়েছে। সন্ধ্যার পরপরই বিভিন্ন এলাকায় গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিলিপনগর ইউনিয়নে বর্তমানে অন্তত ৮টি সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এসব বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের অধীনে স্থানীয় ও পার্শ্ববর্তী পদ্মা নদীর ওপার এলাকার বহু সদস্য কাজ করছে।

তাদের মধ্যে কেউ সম্প্রতি কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে, আবার কেউ একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি হিসেবেও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই চাঁদাবাজি, দখল, অস্ত্রের মহড়া এবং সন্ত্রাসী তৎপরতা বেড়ে যায়। বিশেষ করে ফিলিপনগর কলেজের উত্তরাংশ ও মন্ডলপাড়া এলাকায় আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরীর পিছনে ও মাঠ পাড়াতে সন্ধ্যার পর নিয়মিত গুলির শব্দ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় ভয় নিরাপদে ঘরে ফেরা এবং রাতটি শান্তিতে কাটানো।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। জানা যায়, গত রমজান মাসে ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলার আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত ৯ জুন দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত পদ্মার চরে বৈধ বালু মহাল সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার আজিজুল হক (ঝড়ু)কে পূর্ব পরিকল্পিত হত্যার মিশনে ফিলিপনগর-মরিচা ইউনিয়নের সন্ত্রাসীরা অংশগ্রহন করেছিল।

এদিকে গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে ফিলিপনগর কেরানীপাড়া এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক এনজিও কর্মীর কাছ থেকে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান করায় ফিলিপনগর ইউনিয়নের টানা তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান নঈম উদ্দিন সেন্টু হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী চক্রের সংশ্লিষ্টতা বর্তমান সন্ত্রাসী বাহিনীদের রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দৌলতপুর উপজেলার প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা সহ কুষ্টিয়া জেলা বিভিন্ন প্রশাসন সূত্র বলেন, “এলাকার অধিকাংশ অপরাধের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়া রয়েছে। তাদের প্রভাবের কারণে অনেক ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়।” তিনি আরও বলেন, “আগে নিম্নবিত্ত বা ভাসমান পরিবারের কিছু সদস্য অপরাধে জড়াতো। বর্তমানে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও বিত্তশালী পরিবারের সন্তানদেরও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে দেখা যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।”

উপরোক্ত বিষয়ে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “কোনো ঘটনা বা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। ফিলিপনগর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অবসান এবং নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ফিলিপনগর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

Tags :

কুষ্টিয়া জেলা নিউজ ডেক্স, কুষ্টিয়া জিলাইভ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর