স্বাস্থ্য সেবায় আধুনিকায়ন
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘদিনের টিকিট জট, দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি কমিয়ে রোগীদের দ্রুত ও সহজে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চালু হয়েছে অটোমেশন পদ্ধতিতে টিকিট সেবা। গত ২৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হওয়া এ উদ্যোগ ইতোমধ্যেই রোগীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, স্বাস্থ্যসেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতেই এই আধুনিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অটোমেশন পদ্ধতিতে টিকিট ব্যবস্থা চালুর পর রোগীদের আগ্রহ বেড়েছে। চালুর প্রথম দিনেই বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন ১৪১ জন রোগী। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওইদিন সরকারি ছুটি থাকলেও রোগীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে আধুনিক সেবা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক সূচনা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে হাসপাতালের প্যাথলজি, ব্লাড ব্যাংক, ইসিজি-ইকো রুম, রেডিওলজি বিভাগ, রেন্ট কালেকশন রুম, ইমারজেন্সি বিভাগ, ফিজিওথেরাপি বিভাগ এবং আউটডোর টিকিট বিক্রয় কক্ষে মোট তিনটি অটোমেশন বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বুথের মাধ্যমে ধাপে ধাপে হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করা হবে। সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডিজিটাল টিকিট কাউন্টারে রোগীদের উপস্থিতি থাকলেও আগের মতো দীর্ঘ লাইন নেই। অনেকেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই টিকিট সংগ্রহ করে নির্ধারিত চিকিৎসকের কক্ষে গিয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
অটোমেশন বুথগুলোর কারণে বিভিন্ন বিভাগে সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় সহজ ও দ্রুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা। চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, আগের তুলনায় এখন টিকিট সংগ্রহে কম সময় লাগছে। অটোমেশন পদ্ধতি চালুর ফলে অপেক্ষার সময় কমেছে এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াও অনেক সহজ হয়েছে। সদর উপজেলার রোগী আব্দুল করিম বলেন, “অটোমেশন টিকিটিং সিস্টেম চালুর ফলে রোগীদের ভোগান্তি কমবে। রোগীদের তথ্য সংরক্ষণ থাকায় ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইকবাল হাসান বলেন, “অটোমেশন পদ্ধতিতে টিকিট প্রদান চালু হওয়ায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বারকোড স্ক্যানের মাধ্যমে রোগীদের পূর্বের তথ্য সহজে পাওয়া যাবে এবং দ্রুত টিকিট প্রদান সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রথমবার কোনো রোগীর তথ্য সিস্টেমে যুক্ত করতে এক থেকে দুই মিনিট অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। তবে সেটিও হাতে টিকিট লেখার তুলনায় কম সময়সাপেক্ষ। একই রোগী পুনরায় এলে পূর্বের তথ্য সংরক্ষিত থাকায় আরও দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
এতে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং চিকিৎসা গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ হবে।” ডা. ইকবাল হাসান জানান, রোগীর নাম, বয়স, মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকায় পরবর্তীতে হাসপাতালে এলে পূর্বের তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে রোগীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যগত অভিযোগও এই সিস্টেমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতাল প্রশাসনের ভাষ্য, চালু হওয়া এই অটোমেশন টিকিট ব্যবস্থা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করা হবে। এর মাধ্যমে শুধু সময় সাশ্রয় নয়, বরং টিকিট বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।









